আক্ষেপ

অলভ্য ঘোষ

চরাই পাখি কোন গোলায়

তার ধান গুছিয়ে রাখে ? 

অথচ আমাদের আছে

সুনিশ্চিত নিরাপত্তার লোভ ।

কিসের বিনিময়ে 

গান শোনায় কোকিল ।

আমরা তো ঢেকুর ও তুলি না

উদ্দেশ্য ছাড়া ।

বর্ষা-এলে ময়ূর নাচে পেখম তুলে ;

কোন ঘরানায় সে এ নাচ শিখেছে ?

কোন ক্যালেন্ডারে সে উৎসবের

দিনক্ষণ দেখে ?

আমাদের আছে ভুরি ভুরি হলিডে

লাল কালি দিয়ে লেখা ।

আমরা মেঘ দেখে নাচি না

নাচি পাঁজি দেখে । আমাদের আবেগ

উচ্ছ্বাস সব নাচে সুতোর টানে ।

আমাদের আছে ডান্স বাংলা ডান্স !

অ্যাকোরিয়ামে ভরে রাখা আছে সমুদ্র ।

আমাদের কত লেক আছে আছে পার্ক

সিনেমার তারে মেলে রাখা আছে শরীর ।

কবুতর কি জানে এসব কথা ; পালে কি

সে ভ্যেলেনটাইন্স ডে ? চিলেকোঠার

ছাদের ওপর রোজ তবু তাদের প্রেমে 

নেইকো খামতি । শূন্য বুকের প্রেমিকা

তোমার জন্য বেস্ট সার্জারির কুপন আছে 

উপহার । আমাদের আছে কামনা শরীর জুড়ে

মধুমেহে ভোগা আছে গোপন অঙ্গ ।

জল থেকে দুধ বেছে খায় রাজ হাঁস 

আমরা নোইকো পরমহংস !

দিনে দিনে দেখি এ দেশে আঁতুড় ঘরে

ঢুকে পরেছে পূতনা পাশ্চাত্য ।

প্রযুক্তি আর অর্থের কাছে আমরা

দাস হয়েছি ; হয়েছি আজ যন্ত্র ।

আমরা যত শহুরে বাবু হব গ্রাম্যতা

সরলতা যাবে সব মরে । হাই-টেক 

অস্থিরতার ঝর বইছে পৃথিবী জুড়ে ।

যাযাবর পাখিদের ও কোন বাসা নেই 

নেই দেশ ;

সব-সীমা ছেড়ে উড়ে-চলে মাইগ্রেট ।

যাবার পথে রেখে যায় কত বীজ

নতুন দেশে নতুন সম্ভাবনায় ।

আমাদের সব ব্যবধান কাঁটাতারে ।

আমাদের আছে ভিসা পাসপোর্ট ;

ঝুরি ঝুরি ভরে আমরা করি চুক্তি ।

আমাদের তবু এখনো নেইকো ঘর

আমাদের তবু এখনো হয়নি মুক্তি ।

আমি খুব ক্লান্ত...খাইয়ে দেবে

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

অই তো কারা কুয়াসার ওপারে “আজীব দাস্তা হ্যায় ইয়ে”, 

আজকাল গোলাপ ফুলে ইংরেজি প্রেম বিক্রি হচ্ছে খুব

পাশে বিহারী চায়ের গন্ধে অহমীয়া বিহুস্বর,

আমি ভেঙে ভেঙে গড়ে উঠছি-আর গড়তে গড়তে ভাঙছি...

টুথ্পিকে খুঁটে ফেলছি মান্দারিন কাঁকর,

উর্দু বিলাসে বয়ে চলেছে সখীসুখ—সখাপ্রলাপ

আয়, সিনোরিটা তোর মাথায় পড়িয়ে দিই... বকুল কথা।

বাদাম ভাজা খাবেন মঁসিয়ে...

আমি আলো জ্বেলে জ্বেলে অন্ধকার বারাচ্ছি,

আসলে অন্ধকারে পথ হারিয়ে আবার আলো জ্বালাবো।

মহান সন্ধ্যেবেলা তাকিয়ে দ্যাখো আমি জামা জুতো খুলে ...

চান ঘরে গায়ে ঢালছি “নীপবনে ছায়া বীথিতলে”। 

তোমার রান্নাঘরে “ব্রতকথা” ফুটছে টগবগ করে...

কোলপাতা বারান্দায় প্রচুর “বিদ্যাসাগর” ফুটেছে।

আমি খুব ক্লান্ত...খাইয়ে দেবে আজকে মা...

গ্রাসে গ্রাসে তুলে দাও না... “ মধুসুদন”, “জীবনানন্দ”...

কবিতা বিভাগটি কেমন লাগছে, অনলাইনে মতামত লিখে জানান

আগুন পোড়ায়

সুপ্রভাত লাহিড়ী

নিকষ আঁধারে সঠিক শব্দরা খায় ঘুরপাক 

এসব সময়ে ভেসে ওঠে মনে সেই সব মুখ,

যাদের হৃদয় জুড়ে দাবানল, দাউ দাউ,

নিঃস্তব্ধ কণ্ঠস্বর, দৃষ্টি বোবা।


পোড়া মন ভাবলেশহীন

সৃষ্টির চারণভূমিতে ভাষা আজ

দুঃস্বপ্নের সরগম..........

জেগে থাকে শুধু অব্যক্ত তাড়না!!

এ বছর কলকাতা বইমেলায় 

প্রকাশিত হয়েছে 

সুপ্রভাত লাহিড়ীর 

একটি অনবদ্য কাব্যগ্রন্থ

'এই সময়'

পাওয়া যাচ্ছে 

‘কথা’ সাহিত্য প্রকাশনালয়ের 

৩১৯নং বুক স্টলে

সই  তুই  ঈশ্বরকে  ডাক

শ্যামল সোম

ফুলের বাসর ছেড়ে কাল রাতে 

তোর দোসর গেছে চলে--

সই ভালোবাসার যাতনা 

একা সহিবি কেমন করে ? 

এখন সবাই হাতে হাত মিলিয়ে 

কেমন হাতে হাতে দিচ্ছে তালি।

পোড়ারমুখী প্রেমে পড়ে তুই 

সৈয়দ বংশের নাম ডোবালি ?

হতভাগী ! গোপনে ভালোবেসে 

ডুবে ডুবে এত গিললী পানি ?

ঐ দেখ, আড়ালে একা ঘরে অন্ধকারে 

তোর কাঁদেন বসে নানী-।

যাও ! এবার তুমি - গলায় কলষ বেঁধে 

ঐ কাজরী দিঘির পাড়ে যাও।

এই দুপুরে গাছের ডালে পাতার ফাঁকে 

কে ডাকে ? বউ কথা কও !

হারিয়ে গেলো তোর সেই আপনজন, 

তাকে হলো আর পাওয়া--!

নদীর পাড়ে গাছ গাছালি, দোতলায় 

এই গাঁয়ের ঘর সন দিয়ে ছাওয়া।

এক পলকেই হবে ছাই ! 

রাতে ঐ কুপীর আগুনটা একবার কাছে পাই।

এখনও তুই মনের ভেতর খুঁজিস কাকে ? 

নাই ! নাই ! কেও কোথাও নাই।

নয়ন মেলে দেখ, কালো এক যমের মতো 

ঝুলছে ঐ লম্বা ঘরের কড়িকাঠ--

আঁধার রাতে শেয়ালের ডাক শোনা যায়--

বাড়ে বুকের কাঁপন-দুরে শ্মশাণ ঘাট।

পরনের রঙিন শাড়ী হাতে নিয়ে, 

আনমনে সই এখনও তুই স্বপ্ন দেখিস বসে ?

সাজানো পালকির সাথে তোর দোসর 

আবার বুঝি দাঁড়িয়েছে দুয়ারে এসে ?

রাত পোহালো এলো দিনের আলো-

এখন ফজরের ঐ আযান ভেসে আসে।

জীবন সংগ্রাম

সুমন কুমার সাহু 

মেঘলা আকাশ ছেয়ে  

ঝির ঝির সারাদিন 

বেলা বয়ে যায় নদীর জলে 

যাত্রা অন্তহীন । 


ঢেউ ওঠে মনে 

ঢেউ ভাঙে মনে 

বয়ে যায় স্রোত মন সাগরে 

একলা নাওয়ে বসে

শক্ত হাল ধরে 

সময় ফেরি পারাপারে। 


ভালবাসার আকাশ মেঘ ভাঙ্গা রোদে 

মন মাঝি ক্যানভাস জীবন সংগ্রামে ।। 

স্নিগ্ধ সত্যি

অতনু নস্কর

সীমানার ভিতর; গুলি বন্দুক আর মিথ্যে আপোশ।

তবে সত্যি টাকি বিজ্ঞান!

ছাতার মাথা;

বিজ্ঞান যদি সত্তি হবে; তবে কেন এত হানাহানি।

সত্যি বরই দুষ্কর চেনা; সেত গাছে পাকা আম;

সরকার যখন পালটাই; তার তো জলের দাম

সত্যি এই জগতে একটিমাত্র তাই..

জন্মেছি এই প্রেমের জন্য; মরতে হাবে তাই...

মহালয়া

ডি কে কল্যাণ

সবুজ ধানে ঢেউ খেলে যায়, পদ্মকলি হাই তোলে; 

শিউলি ফুলের গন্ধ মাখা মিষ্টি হাওয়া দ্বার খোলে।

ফুড়ুত ওড়ে চড়ুই পাখি, শালিক লাফায় খড়ের চালে;

ধানের শীষে গঙ্গাফড়িং নাচছে যে কোন অচীন-তালে।

পূব-আকাশে সোনার বরণ, ঘাসের ডগায় হীরের ফুল;

কাশের বনে মাতন জাগে, ছলাত ছলাত নদীর কুল।

ধায় দেখো ওই রেলের গাড়ি তেপান্তরের বুক চিরে,

এখন ছুটি সব কাজেরই ঘরের মানুষ ঘরে ফিরে।

আকাশ জুড়ে রামধনু ওই স্বপ্ন-লোকের কল্পনা,

পেঁজা তুলোর মেঘ এঁকে যায় আনকোরা সব আলপনা।

কোঁচড় ভরে শালুক তোলে নদীর ঘাটে এক মেয়ে,

নৌকা চলে উজান পানে আগমনীর গান গেয়ে।

আয় ছুটে আয় সবাই, মোরা আনন্দেতে গান গাই,

মা আসছেন মা আসছেন আর একটুও দেরী নাই।

ভোর বেলাতেই বেতারে'তে চির-নুতন 'বীরেন ভদ্র',

'আশ্বিনের শারদ প্রাতে' আকাশ জুড়ে মেঘ-ও-রৌদ্র।

পিতৃ-পক্ষ অবসান হলো এবার জাগবে মহামায়া;

দেবী-পক্ষের শুভ-সূচনায় মহাপূজার মহালয়া!




.




.

মৃত্তিকা

আনোয়ার কামাল

মাটির সোঁদা গন্ধে বেড়ে ওঠা কৃষকের মল্লভূমি

মুখের সরল হাসি আকাশের জোছনায়

আলো বিকিয়ে দেয়। কোন এক পদ্মার চরে

কাশফুলের ধবল মখমলে অচ্ছন্ন রাখালের শরীর

কলমিলতার মতো কিষাণীর পুরু বাহুমূল জড়িয়ে 

চোখে ঝলসে ওঠে হাসির ঝিলিক; পদ্মার চকচকে

রূপালী ইলিশ, নায়ের গলুই চুয়ে পড়ে আনন্দলহরী।


বান আসে বান যায় জেগে ওঠে অজস্র চরাঞ্চল

বুকের জমিনে বাড়তে থাকে অঙ্কুরিত আবাদি ফসল

জেগে ওঠে কামুক শরীর জেগে ওঠে উতাল হাওয়া

দখল বাড়তে থাকে, হাত বদল হয় জমিন শুষে নেয় 

লোনা ঘাম আর ভেজা রক্ত; সেই সাথে মানুষের

রক্ত শুষে জমির কামজ্বর বেড়ে যায়।

মেঘ বৃষ্টি রোদ্দুর

সুমনকুমার সাহু 

বৃষ্টি ভেজা পথের ধারে

দাঁড়িয়ে খানিক্ষন

মেঘ গুড়গুড় বুকের সাথে

তোমায় খোঁজে মন। 

জানালা ছোঁয়া রোদ্দুর তুমি

দুপুর ভরা ঘর

রাত্রি নিঝুমে ক্যানভাসে দেখি

তারাদের ঝলমল। 


সময়ের পথ মেঘ বৃষ্টি রোদ্দুর

খানিক দাঁড়িয়ে ভাবি পাড়ি দেব বহুদূর ।

ভালোবাসা ছুঁয়ে যেতে চাই...

অলোক বর্মন

রুখু-সুখু দিনগুলোতে ঘুরবো দুজনে,

সব ক্লান্তি দূরে ঠেলে-

যাবো লং ড্রাইভে।

ভালোবাসার আগুন জ্বলাবো

ইচ্ছর চকমিক ঠুকে...

দূর হেব যাবতীয় শীতলতা।


ভালোবাসার নীল দিগন্তে

থাকবে না কোনও আক্ষেপ।

এইভাবেই ভালোবাসা আর ভালো লাগাকে

ছুঁয়ে যেতে চাই একদিন, প্রতিদিন।

নিভৃত অভিশাপ

শতসূর্য

থর থর মেদিনী কাঁপে

জড়সড় ভয়ে লোক,

পাপে পূর্ণ ধরা যখন

করছ কেন শোক?

হঠাৎ করে সরছে স্তর

যেখানে সেখানে যখন তখন,

এই তো বেশ ভালো ছিলে

আবার ভয়ে পাণ্ডুর এখন!

কোথায় পালাবে প্রকৃতি থেকে

তার কাছে তুচ্ছ সব,

যতই এগুক মানুষ শীর্ষে

শক্তির কাছে সব শৈশব।

ক্রোধে কাঁপছে ধরিত্রী মা

দিকে দিকে শুধু পাপ,

এ যেন কোন অশরীরীর

নিভৃত অভিশাপ।

নির্বাসন

অর্ক ব্যানার্জী

খানিকটা এরকম হত

দূর পাল্লার বাস ধরত জমে থাকা কথাগুলো

ওপার থেকে আসত কিছু মানুষজন । 

এখন দীর্ঘ দিন কাঁটাতারে কথা আটকে -

ভ্যাপসা হয়েছে বাতাস, অথচ

বাষ্পমোচনের বৃষ্টি কে এখন ডাকছে না ওরা

যা চাইবে তার বেশি কিছু হয় নি, হবে না । 


এই পথে একদিন নাকি

আঁকা ছিল মিছিলের পদচিহ্ন ; 

তারও আগে শিকড়ের উপর শাখা মেলেছিল বটগাছ

তার নিচে সংসার পাতত মানুষ 


আজ দিন শেষের চিঠিতে তুমি নেই

হাতে লেখা কাঠ নয়

নিয়েছি উড়ো জাহাজের প্রান্ত তুলে ।

প্রশ্ন

তাপসকিরণ রায়

সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েছ কি তুমি ?

ঈশ্বর ভেবে যাচ্ছে দেখো !

প্রশ্নের মাঝেই অনেক উত্তরের মৃত্যু হচ্ছে,

জন্মগুলি মৃত্যুর ভেতরে যেমনটা বসে থাকে।


সকাল বিকেল পেরিয়ে একেকটা রাত,

পরিণত ভাবনাগুলি সীমায়িত হচ্ছে ক্রমশ।

এক জাগায় এসে ভেঙে যায় সব কিছু, 

আজের সত্যকালের ভগ্নাবশেষ। 

অস্তিত্বের সন্ধানে ভেঙে যাচ্ছে অস্তিত্ব। 

আবার নিরাকারে মিলিয়ে যাচ্ছে--

ছবি প্রতিচ্ছবি তারপর খালি স্থান...

প্রশ্ন চিহ্নগুলি অপেক্ষিত থাকে প্রশ্নের ভরাটে।

ছবি-বাগান

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

কে কখন কবি?

ট্রেনে বসে  অক্ষর বসাচ্ছি চারপাশে

গাছগুলো সরে যায় অন্য ভাবনা আসে

আর্ত চশমায় দাগ রুখু দৃষ্টি 

কারুঘামে নির্ঘুম সম্ভোগ 

শব্দের অন্তর্বাস  সরে যায়

লালজিভ

ছবিবাগান... সার সার সীমানা প্রাচীর।

অনামিকা

অতনু নস্কর

অনামিকা,

আমাকে তো তুমি এভাবে একা ছেড়ে দিয়ে চলে চলে গেলে,

নিস্যব্দে। 

আমি হয়তবা হারিয়ে গেছি মৌলিক ধাধায়,

তুবউ আমার কবিতা;

কিন্তু বেচে থাকবে, তোমার চিন্তা করে।

মৃগয়া

কর্ণ চক্রবর্তী

বাঘের যখন ক্ষিদে লাগে

সে তখন শিকার খুঁজে নেয়।


আড়ালে আবডালে চোখ মিটমিট করে

মনেমনে স্বাদ নেয় সুদৃশ্য হরিণীর,

               সুযোগ মতন

একপ্রকার উড়ে গিয়ে বসিয়ে দেয় দাঁত,

সুস্বাস্থ থাবার আঁচড়ে  

               ফালাফালা করে দেয় মায়াবিনী পাঁজর।


অসংখ্য ঝোপের পাশে অবলা হরিণীর স্বর

পৃথিবীকে দ্বিধা হতে বলে...


ঝাঁকেঝাঁকে হরিণ-হরিণীর দল

সবাই দেখছে ।

সবাই দেখে


এভাবেই শিকার হয়ে যায়।

ডানা পোশাক

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

সাদা পাতা থেকে

তুলে আনি ফড়িঙের খিদে  ঘুম

বিশেষ সংবাদ

লাভের উত্তর লেখা কাদা গোলা জলে 

পরজীবিদের যাওয়া আসা

উত্তাপ হারিয়ে মৃত রক্তজ্যোৎস্না 

তিন পা  ঠিক আরও তিন পা দূরে

শূন্য ছায়াপথ


বৃষ্টি এলে নেচে ওঠে ফুর্তিবাজ ফড়িঙের ডানার পোশাক ।

বৃদ্ধ 

তাপসকিরণ রায়

আবার সেজে এস, চলো ফিরে যাই আবার,

বৃদ্ধ হলেই বা, এখনও তো জীবনের ঘ্রাণ পাই,

অনুভূতি যত যাক শুষে, ফেলে আসা দিনগুলি কে ভুলতে পারে বল ? 

চামড়া ভাঁজের নীচে শক্তিহীন দৈন্যতা ধরে রাখা, ইচ্ছেগুলির নবীনতা হারায়নি এখনও !

শেষ দৃশ্যগুলি পাটে পাটে সাজিয়ে রেখেছ তোমরা--বয়সের দৃশ্যগুলি সাদামাটা,

বিছানায় পুষ্প তোড়া নেই ! ধরে রাখা খালি পাশ, খিন্ন পাশবালিশ, 

তবু জোনাকি জ্বলা চোখের ভিড়, তবু চাঁদ জ্যোৎস্নায় ভিজে যাওয়া,

স্বপ্নলোক বয়স ভোরের ভেতর ডুবে যায়... 

তুমি আসবে বলে

আলোক বর্মন

আবহাওয়া নরম হয়েছে,

আকাশে কোথাও এক টুকরো মেঘ জমেনি।

অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে বিকালের সূর্যাস্ত,

তোমার আগমনের শব্দে।

ঘাসফুল ছুঁয়ে আছে রোদ্দুরের কনা,

প্রেম জড়িয়ে আছে সময়,

দেখা হবে আজ।

ইতিহাস হবে এই জীবনের, তুমি আসেব বলে

স্বপ্ন হব আমি তোমার চোখের।

ঠিকানা

সুমনকুমার সাহু 

এইতো সাথী সুখের হাসি বাজায় বাঁশি চলতে থাকো সাথে;

যদি হোই মেঘলা হাওয়া ভালবাসা

ভিজতে থাকাতো মার মনে,

তুমিনাও আমার ছোঁয়া ছন্দভাষা

স্বপ্নগুলো চোখের কোনে,

এইতো লিখি হৃদয় সাজি স্বপ্ন দেখি জীবন চলার পথে।।

ওরে পোড়া মন 

অতনু  নস্কর

ধূসর বিকেল; নেমে আসে বেঁকে;

ধরে, 

রিকত সূর্য রেখা।

ওরে পোড়ামোন; চুপ করে শোন্;

আসছে বিদায়বেলা।

স্বৃতি-গুলো শেষ, ছিড়ে দিয়ে রেশ ;

ফেলে দেব দাবানলে। 

চলে যাবি শেষে; জোত্সনার দেশে;

ভাসিয়ে অশ্রু ভেলা।

যদি হাসফাস, করে তোর শ্বাস;

তাকাবিনা তবু পিছে।

ওরে পোড়ামোন; পুড়বে এ দেহ;

দেখবি ছদ্দবেশে।

ডায়ান্থাস

সীমা ব্যানার্জী-রায়

আমার বাগানে দুলছে মোরগঝুঁটি

ডায়ান্থাস! শুধু জেনো নাম তার!

প্রেমের সর্বস্ব ধন- নাকি ভুলে থাকি তোমার 

শিল্পে, অনুপম মিলন বিন্যাসে...


জানলায় ভাসে মেখলার বিস্ময়

কানের লতির তল বেয়ে ওড়ে 

শিহরিত পরাগের উদ্গার বিষ!

এদিকে যৌবন তোমার রয়ে গেল বুকে।

চেয়ে থাকি নির্ণিমেষ- এবার মূর্ছিত হবো

তোমার তাৎক্ষণিক প্রেমের সুখে।


সাধ জাগে বুকে নিতে

জুড়াতে বুকের জ্বালা-

শুধু এইটুকু জেনো-

আমার চুম্বনরেখা শূন্যে ছোঁবে তোমাকেই!

ভোর

সুমন কুমার সাহু

ঠিকঠিক জানি স্বপ্নের খনি আকাশের বিশ্বাস;

ঘুম নেই চোখে বৃষ্টি ঝরে

মেঘলা মনের দীর্ঘশ্বাসে, 

তুমি কি আসবে আবার ফিরে

একলা সময়ের নিশ্বাসে,   

প্রেমে আমি তুমি স্বপ্নের ছবি আগামীর আশ্বাস।।

নারী 

অতনু  নস্কর

পূর্ণতা দিয়েছ –

নদী, ঝরনা আর ওই বৃষ্টি ভেজা সবুজ পাতাকে।

গুড়িয়ে দিয়েছ সব জাগতিক অহঙ্কার।

চিরে দিয়ে বুক পাহাড়ের,

ভরিয়েছ কুম্ভ অমৃতের। 


তোমার রূপে সেজেছে,

মা দুর্গা; লক্ষ্মী; আর সরস্বতী।

তোমার স্পর্শে এখনো মেলে,

লোপামূদরা, সীতা অথবা দ্রউপদির অনুভুতি।

লড়েছ লড়াই,

ঝান্সির রানি, প্রিতিলতা অথবা কল্পনা হয়ে।

জলেছ; তোমার পুরুষের তরে,

কখনবা চিতায়; কখনও অগ্নিকুম্ভে।


পেয়েছ মুক্তি ভাষায়; রক্ষনসিল দার্শনিকের,

কখনো তলস্তয় অথবা জজ্ঞের পুরহিতের।

যে মুক্তি আজও লুকিএ রাখা আছে, 

ওই মন্দিরের বিগ্রহে; 

বেদ আর উপনিষদের পাতায়ে।।

চশমা

অতনু নস্কর

শক্ত করে রাখবো ধরে তোমার মাথা;

বসবো আমি নাকের ডগায় আরাম করে,

মলে দেব কান আলতো করে,

ঢেকে দেব কপাল খানিকটা;

আর খানিকটা তোমার গালI 


তোমার ভাবনা-চিন্তা, আর বড় হয়ে ওঠা,

আমি অনুভব দেখেছি। 

আমার চোখ দিয়ে, তুমি দেখেছ তার চকচকে নরম তক,

কপাল কোটি পাদদেশ।


ভিজেছি তোমার চোখের জলে, 

হারিয়ে যায়, যখন সে হটাত,

আর আজ ও এই কবিতার পাতায়, 

সে জল পরে ছুঁয়ে আমার চোখের পাতায়।I

স্বাধীনতা

সুমন কুমার সাহু

একটুকরো আশ্রয়

অথৈ গভীর সাগর জলে

নিষ্টুর নিয়তির মাঝে

আজো তুমি বিশ্বাস মনে।

কেড়ে নিলো যারা অধিকারে ভরা

আমার ভালবাসা

ছুড়ে দিই তারে নিয়তির মাঝে

জানি ওরা দিশেহারা।


তুমিতো সত্য, সুন্দর এ হৃদয়ে মম

আমিতো কাব্য তোমারই জীবনসম।।

ক্ষমা কোরো

কৌশিক দাশগুপ্ত

নাড়ি ছেঁড়া কান্না স্বস্তি এনেছিল বাতাসে

সূতিকাগারের রক্ত আলোকে চলার শুরু সেই,

অতঃপর উজান ঠেলে ঠেলে আসা কিছু পথ

একটু একটু করে চুঁইয়ে পরা জীবন –


মহাকালের ছায়াপথে মিশে গেল

আরো একটা বছর – আবার জন্মদিন।

বৃষ্টিভেজা মাটিগন্ধমাখা ফুলরেনু –

মায়াদীপের আলোছায়া ঢাকা, ব্যাখ্যাহীন

একটা বছর ঘুরে সেই ছেনা ক্ষণ

যেমন পুরোনো বাইশখানা –


মাত্র একটা বছর তবু ধরা যায়নি তাকে

কালের আঙ্গিকে – ইতিহাস গড়ে তোমার আমার।

বছরটা মূল্য গুনেছে অফুরান –

উছ্বল কৈশোর, আজন্ম প্বার্শিক, একান্ত অনুভূতি সব

নিঃশেষে নিঃস্ব করে করে বদলে গেছ তুমি

বদলেছে স্থিতি - অনুভব - আর সবই।


ঠিক বর্ষকাল আগে মনে পরে

শেষ জন্মদিনে – এক ছায়াশরীর ঢেকেছিল 

তোমায় তার সমস্তটা দিয়ে, অন্ধকার বিস্ফোরণ

গ্রাস করেছিল তোমাকে ধীরে ধীরে

কাঁদিয়েছিল, হাসিয়েছিল, বীজ বুনেছিল –

আজ বছর ঘুরে এই জন্মদিনে

তাকে ছাড়িয়ে গেছ তুমি – যে বুনেছিল বীজ

দিয়েছ তাকে – স্বপ্ননীল আগামী,

নবজাতকের অপার্থিব ঘ্রাণ, জননী তুমি।


এ জন্মদিন তোমার তাই শুধুই দায়বদ্ধতার

নবজাতকের কাছে – অথবা অঙ্গীকারের

তিলে তিলে ফুরিয়ে ফেলার নিজেকে,

কিম্বা শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখার – 

সেই ছায়াশরীরের ঘনায়মান মৃত্যু

যে শুধু বাঁচতে চেয়েছিল

তোমার জন্য ...


ক্ষমা কোরো তাকে – যে বীজ বুনেছিল

ভালবাসার ইতিকথা

সুমন কুমার সাহু

হারিয়ে যাওয়া চোখের ভাষা

কোনসে চোরাস্রোতে

আঁকা বাঁকা পথ নদীর জলে

হৃদ সাগরে মেশে। 


সাগর জলে ঢেউ তুলে নাও

আবেগ ঘন মেঘে

তুফান তোলা একাকিত্ব

তোমায় খুঁজে ফেরে।


ভালবাসার মুক্ত আকাশ

হাত ছানি দেয় দুরে

গভীর রাতের নির্জনতা

স্বপ্ন খোঁজে ভোরে।


তোমায় ছাড়া ভাল্লাগেনা

আসবে কবে ফিরে

ভালবাসার ইতিকথা

আমার চোখের কোনে।।

চেনা শহর চেনা প্রতিক্রিয়া

চয়ন ভৌমিক

একদা কোনো কৃষ্ণচূড়ার বহুপত্রী পাতার আড়ালে,

কাকের বাসা সন্ধানী, মুগ্ধ ডাকের ধূর্ত কোকিলা -

বা শিউলি গাছের অমসৃণ কাণ্ডে – প্রজাপতি হওয়ার আগে,

গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ঘুমানো শুঁয়োপোকারা – 

টান মেরে নিয়ে যায়- সেই স্বপ্নালু ছেলেবেলায়,

সেই হিম পরশের আলুথালু সকালবেলায়।


আজ এই মহানগরের প্রতিটা রাস্তায়,

বাড়তে থাকা খন্দের সাথে আমার সন্ধি;

এ শহরের প্রতিটা ফসিল হওয়া ট্রামলাইনে–

প্রতিটা বুঁজে যাওয়া–

সাঁতার শেখার স্মৃতি জড়ানো পুকুরে,

একাত্ম আমার পুরোনো ভোলার ফন্দি।


তবুও এ শহরের সব আঠালো ধূলিকণাকে,

ভালোবাসা ভেবে রাখি জড়িয়ে।

নৈশব্দের বাঙময় অন্ধকার–

কাঁপতে থাকে আমার বিষ নিশ্বাসে,

বেঁচে থাকার অমোঘ আকর্ষণ, ইঁটের জঙ্গল ঘিরে–

হাত ধরে হ্যাঁচকা টানে–

তুলে আনে আমাকে ক্রমাগত ডুবতে থাকা–

চোরাবালির ফাঁদ পাতা গর্ত থেকে।

5 অক্টোবর, 2014

আঁধার বাতি জ্বলে না

অজয় দেবনাথ

শুধু আশা ক’রে

একের পর এক

আশার দীপ জ্বালি।

হাতটুকুর আড়ালও নেহাত বিলীয়মান মনে হয়।


বুড়ো দাদুর তোতাপাখির মত

সব দিক থেকে

আমার খোলা পথ বন্ধ ক’রে দেয়।

একটা ফোঁকরও অবশিষ্ট থাকে না

যেখান দিয়ে আমি গাইতে পারি,

ডানা দুটো মেলতে পারি।


মায়াবী রাক্ষসীরা আসে বারবার।

আমাকে ভুলিয়ে নিয়ে যায়

কেউ বা হাত, কেউ বা পা,

কেউ বা মাথা খায়।

পঙ্গু হয়ে মাপ মত প’ড়ে থাকি।

তবু একটা শূর্পনখা আসে না

যার বসা নাক, ভাসা চোখের মাঝে

তবু একটা অন্য কিছু লুকিয়ে থাকে।


আকাশটা অসম্ভব লাল

বাতি জ্বালার সময় হ’ল।

নির্দিষ্ট মাপে ভদ্রস্থ আমি

হাত দুটো কই? আড়াল দেব!

কোনো এক পূর্ণিমা রাতে

চয়ন ভৌমিক

পল্লবিত ভালোবাসা, ছোঁয়াচে অসুখ যেন–

আগুন হয়ে পোড়ায় স্নায়ু তন্ত্র।

আমার রুধিরে শোনিতে , তোমার লাল রঙ–

প্রবাহে প্রবাহে উচ্চারিত বৈদিক মন্ত্র।


নির্বাক ঠোঁটের ভিজে পরশ,

দূরে সরায় ঠিকানা বদলের অভিমান।

সমুদ্র সখা তুমি, আমার সুখের নোনা জল,

বিস্তর ঢেউয়ে ভাসাও আমায়–

শুষ্ক বালি করুক, রিপু চরিতার্থের অভিবাদন।।

আমাকে

দীপঙ্কর বেরা

আমার আমি রোজ খুঁজি

আমার বকুলতলায় ,

কলতলাতে রোজ লুকিয়ে

আমাকেই সে শ্যাওলাপড়া জল ছিটানো

শানের উপর পিছলে ফেলে

আমার কাছে আমাকেই হাসির যোগান দেয় ।

জল পড়ে সে জল হয়ে

গায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলে

আবার উঠে দাঁড়ায় ;

সুখের পাতা বিছানাতে খুব আয়েশে

ঘুম ভাঙানো সকাল হয়ে

সে সবার হতে চায় ।

আমার আমি চিনতে শিখে

আমাকেই সে খুব যে বাঁচতে শেখায় ।

বাগান

সুচেতা বিশ্বাস

যত্ন নিয়ে বানিয়ে নেওয়া

যত্ন দিয়েই সুখ

পাতায় পাতায় ক্লোরোফিল

হারিয়ে যাওয়া মুখ

 

বাঁচিয়ে রাখার মন্ত্র ছিল

মরশুমিরা রঙিন

আসা যাওয়ার প্র্রত্যাসাতে

আলাপ হল সেদিন

 

স্বপ্ন দেখায় বেবাক হাওয়া

দূর দেশেতে পাড়ি

‘এই ছেলে তুই জানিস না’

দ্বিধার সাথে আড়ি

 

আর রাখি না সবুজ গোলাপ

বৃষ্টি থেকে ছুটি

এখন শুধধু সাজিয়ে রাখি

ফুলের টবে চিঠি

28 সেপ্টেম্বর, 2014 

বিমোহিত এ জগৎ 

শান্তনু সান্যাল 

তুমি শুধুই দেখেছ আমার দেহে - 

মীনাবাজারের ঝাঁক ঝমক,

সন্ধ্যার সাথে ক্রমে 

ক্রমে আঁধার 

গ্রাস করা,

ওই 

গলির শেষে রয়েছে প্রাচীন দুর্গের

অসমাপ্ত নীরবতা, ঘনীভূত 

নিঃশ্বাসের মেঘ, চাপা 

কান্নার বর্ষা 

বিহীন 

আষাঢের জ্বলন্ত রাত্রি, কদাচিত !

বুকের ভিতরে প্রসস্ত ওই 

মরুভূমির ব্যথা 

ভরা 

চিৎকার, শেষ প্রহরে যদি তুমি 

শুনতে, অনেক কিছুই রয় 

যায় প্রোথিত, সময়ের 

নির্মম মাটির 

তলে !

মানুষ শুধুই দেখে যায় বিস্মিত 

ভাবে, কেশরের চটক 

সুরভিত রং, 

কেউ 

মনে রাখে না সহস্ত্র ফুলের মৃত্যু,

বাহ্য সৌন্দর্য্যে বিমোহিত 

এ জগৎ, অন্তরের 

পবিত্রতা 

রয় 

যায় যথারীতি অভিশাপিত - - 

চিরদিন - -  

উৎকর্ষতা

অজয় দেবনাথ

দুটি স্রোত বয়ে চলে।

একটি স্ফীত-

গড্ডলিকাময় জনতার স্রোত।

বোঝা যায় জীবন বর্তমান

যায়নি হারিয়ে।


অন্যটি ক্ষীণ

কখনও বা ক্ষীণতর,

প্রা-য় লুপ্তপ্রায়।

যেখানে বৈভব নেই,

বিলাস অর্থহীন,

ক্ষুধাতুর-

যে কোনো খাদ্যেই জীবনধারণ,

অথচ এক বলিষ্ঠ ঋজুতায়

জীবনের উৎকর্ষ সন্ধানী।


তার ক্ষীণকায়া নিরন্তর

উজান-স্রোত বয়ে দিয়ে যায়

জীবনের দিক নির্দেশ।

মিত

সুচেতা বিশ্বাস

নদীর যেমন মল্লামাঝি

ভোরের  সূর্যোদয়

প্রেম মানেই প্রথম দেখা

উনিশ বিশে হয়

 

পাহাড় যেমন গূহার সাথে

বৃষ্টি মেঘের বাড়ি

হঠাৎ দেখা আলগোছে

নিত্য ভাব আর আড়ি

 

শিশির যেমন ঘাসের জন্য

ভোরের বন্ধু হিম

চুপিচুপি মেঘলা দুপুর

হারিয়ে যাবার দিন

 

পদ্মপাতায় যেমন জল

উদাস শেষ বিকেলও

সব দেখার ঐএকই মানে

বন্ধু আছো হারিয়ে গেলেও

মৃত্যু

সুদীপ্ত বিশ্বাস

অহংকারী ভ্যানিটি ব্যাগটা 

মিলিয়ে গিয়েছে বুদ্বুদের মত।

তিল তিল করে সঞ্চিত সম্পদ রয়েছে ছড়ান।

ছড়ান রয়েছে সব উপহার

কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, প্রথম চুম্বন স্মৃতি, মুছে গেছে।

নুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সযত্নে গ্রন্থিত মালা

সেটাও ছিঁড়েছে।

আলগা হয়েছে ফুল থেকে ফুল।

বাসর ঘরের প্রথম রাতের প্রতিশ্রুতি নিয়ে

লম্বা কফিনের বাক্সটা এগিয়ে আসে

হাতে নিয়ে পৃথিবীর শেষ উপহার।

21 সেপ্টেম্বর, 2014

প্রতিষেধক নিষ্প্রয়োজন...

অনুপম দাশশর্মা

কতটা সুন্দর হলে বিষাদের চরণ আবার বদলে দেবে চাইবার গড়ন...

জানা নেই তবু তোমায় উচ্চারণ করি বারংবার..

তুমি সহজ পাঠে মগ্ন হয়ে পড়ো

স্বাভাবিক।


যতটা দেবার ছিল, অথবা নেবার কিংবা দু'জনের রাজ্য সিংহভাগ

সে সব ধূলো ভ'রা আদিখ্যেতাই ভেবে

বেশ তো মিছিলে জড়িয়ে পড়ো..

উঁহু বলার কিই বা আছে...

ঠিকই করো।


কখনও গন্ডী দাগ মুছতে নেই, মুছব নাই যদি ভাষা কি পাই

বোধের ভাষায় কিছু কী আশায় প্রতিদিন কোন এক সাধনায় বসা

ঢেলেছ জল মাপেই, ব্যর্থতায় সফল

প্রত্যাশা।

একলা আমি

সুদীপ্ত বিশ্বাস

সেই নদীটার কাছে আমি যেই গিয়েছি 

সে তো শুধু চুপটি করে শুনল কথা 

সেই পাহাড়ের কাছে আমি যেই গিয়েছি 

তার তো তখন বুকের ভিতর নিরবতা।


এই আমিতো এর ও আগে কয়েকশ বার 

এদের কাছে এসেছিলাম তোমায় নিয়ে

তখন তাদের সবার কত প্রগলভতা

খিলখিলিয়ে হাসত শুধু সমস্ত দিন।

এখন তুমি যেই গিয়েছ আমায় ছেড়ে

এদের সবার গোমরা মুখে কুলুপ আঁটা।


তোমায় ডেকে দিলাম চিঠি হাওয়ার গায়ে

তোমায় ডেকে দিলাম চিঠি ঘুড়ির বুকে পাখির ডানায়...

সেই পাখিটা উধাও হল, স্তব্ধ হল বাউল বাতাস

সেই ঘুড়িটা গোঁত্তা খেয়ে পড়ল খসে মাঠের পাশে ।

ক্যালেন্ডারের দিনগুলো সব থমকে আছে মুখ বেঁকিয়ে

আকাশ জুড়ে অন্ধকারে একলা আমি... একলা আমি…

কথা কও

সুমন কুমার সাহু

তুমি নিশ্চুপ কেন

কথা কও

তুমি তো চঞ্চল থাক

হৃদয়ে যখন বও

তুমি ঝরনায়ে ঝরে পরো

হৃদয় গুহার মাঝে

তুমি ডানা ঝাপটাও

মন আকাশের 'পারে


তুমি নিশ্চুপ কেন কথা কও

তুমি নিশ্চুপ কেন তুমি কি আমার নও!

মন

দোলনচাঁপা ধর

মনের কাছেতে থাকো মন,তবুও অচেনা

ভুল ভেবে কর বসবাস,সংসার বাড়ে 

ভারী হয়ে ওঠে সঞ্চয়ের থলি,কত আসে

এলো মেলো ঝরা পাতা,ঝড়ের বাতাসে 

কেন সব বয়ে চল কিসের তাগিদে ?

দায় কিছু তেমন কি আজো বাকি আছে?

যখন এসেছে দেখ বাঁচার সময়, কেন 

আছো আঁকড়িয়ে যত মায়াময়,জঞ্জাল 

বিষাক্ত সম্পর্কের বেদনা,ছেড়ে দাও

পড়ে থাক আর বহিয়ো না,অনেক তো 

নিয়েছ বুকে প্রেমের আঁচড়,আজ থাক

ক্ষতগুলো তেমনি সুন্দর,জাগরূক থাক 

প্রেমের জয়গান,তুমি শুধু সরে এসে দেখ 

ফেলে মান,যা কিছু হারিয়েছিলে,দুঃখ ছিল 

মনে,তারা আজ তুচ্ছ যেন সবই অকারনে 

ভিড় করে অন্তরে তোমার,মুক্তি ডাকে 

তোমায়, নিয়ে শেষ সম্বল খুলে দাও দ্বার।

ওরা

স্বর্ণায়ু মৈত্র

কোকিলের স্বর চাতকের কন্ঠে ঘুরে আসে বারবার। 

ওরা শুধুই ঘড়ির কাঁটা 

ঘুরে যায় নিঃশব্দে।

সময়ের সাথে নেই ওদের লড়াই 

শুধু সময় টাকে পুড়িয়ে খাবার 

স্বপ্ন আছে মাত্র।


(রাস্তার ধারের গরিব মানুষ গুলি যাদের সময় বদলায়, সরকার বদলায় কিন্তু অবস্থা বদলায় না। ওরা বঞ্চিত নিরন্তর।)

14 সেপ্টেম্বর, 2014

সময়

সুমন কুমার সাহু

বছরের প্রথম দিন থেকে

দিন লিপি লিখে গেছি

প্রতিটা পাতায় উদ্ভাসিত

মুহুর্তের প্রতিচ্ছবি


একে একে ভরে ওঠে

ডাইরীর পাতা গুলো

সময় দিয়েছে এগিয়ে

নতুন ঘটনার সূত্র

বছরের শেষে

মন পড়ে রয়

নতুন ডাইরীর খোঁজে

মন সরিয়ে

খানিক ভেবে

দেখি পেছন ফিরে


লেখা পাতা চাপা পড়ে আছে

শুধু পূরোনো ডাইরীটা চোখে পড়ে।

শুভ জন্মদিন..রইল ঋণ...

অনুপম দাশশর্মা

কলকাতার ধূলোয় ধূলোয় কত আবেগের ফসিল

কত বিক্ষোভে কত মোচ্ছবে সমাদৃত মিছিল

কলকাতা জানে গুণীজন মানে কলকাতা সেরা ডাক

এই কলকাতা উঁচু করে মাথা কলকাতা প্রাণে থাক।


কলকাতা চোখ মেললে সুমন গীটারে সুর গড়ায়

কলকাতা ভোর দরজা খুলে হকারের হাত ধরায়

এই কলকাতা ছাড়তে চায়না সাবেকী পূজার ভার...


কলকাতা জানে মজ্জায় মেশে বাংলার দুই পাড়।


কলকাতা তুমি রক্ত্ দেখেছ নিষ্পাপ মেয়েটির

কলকাতা তুমি সাক্ষী থেকেছ শহীদ ভাইটির

কলকাতা কেন ছাড়তে দাওনা ধূসর আকাশটাকেও

কলকাতা তুমি আঁকড়ে থেকো বৃদ্ধাবাসের মাকেও

কলকাতা তুমি সর্বজায়া ধর্মে প্রলেপ দাও

কলকাতা তুমি ফুটপাত জুড়ে ভাসাও অভাবী নাও

কলকাতা তাই আজও সন্ধ্যায় ইমনের তানে ভাসে

কলকাতা দেখো কত ভালবাসা বেড়াচ্ছে আশেপাশে।

কোনো ফুল ফোটে না

অজয় দেবনাথ

ভরা এ যৌবনে

মাধুকরী নিয়ে যাই...


কথামতই দখিনা বাতাসে

হাস্নুহানার গন্ধ ভাসে

এখানেই বসি আমি।

মুকুলিত যৌবন-

সাঁওতালী রমণীর ঋতুস্নানের মত

রক্তস্নান হয় সারা।

গোধুলী বিকেলের মোহিনী আভায়

এখন পোড়াচিতার গন্ধ।

কানাভাঙ্গা কাঁসার থালার মত ডবগা চাঁদ

আর মরা শুকনো ঝাঁকড়া অশ্বথ্ব গাছের মাঝে

আমি শুধু একা।

লগ্ন তো ছিল ঠিক

ভরা পূর্ণিমার রাতে আমাদের...।


এগিয়ে কি গেছি আমি

অথবা তুমিই পড়েছ পিছিয়ে?

পোড়াচিতা আর হাস্নুহানা

মিলেমিশে ভাসে বাতাসে;

জোয়ার-ভাঁটা চলে নদীতে;

জাদুকরীও তার খেলা বদলায়;

মরা গাছে শুধু

কোনো ফুলই আর ফোটে না।


বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনে যাঁরা কবিতা পাঠিয়েছেন, তাঁরা দয়া করে বাংলা সাহিত্য ফেসবুক পেজটি লাইক করে নিন... জানতে পারবেন কোন সংখ্যায় কার কবিতা প্রকাশিত হল|

7 সেপ্টেম্বর, 2014

ডাকলেও আশা নেই...

অনুপম দাশগুপ্ত

শ্রাবণের এমন ভরা যৌবন দেখিনি কতদিন

এসো না একবার কাঁপা ঠোঁট নিয়ে

আজীবন থাক ঋণ


মেঘেরা এতো রজঃস্বলা হঠাৎ কি করে হলো

তুমিও তো পারো তৃষিত ভূবনে

নিয়মিত অগোছালো


এ দেহটা কার ? গচ্ছিত কবে ? সপ্তপাকের হ্রদে

অলিখিত টান আবদার গালে

মধুময় সুস্বাদে


কল্পিত ছবি ওজন ছাপিয়ে মল্লার নৌকাতে

পারো না তোমার চিন্তার ভারে

বৈধতা বসাতে


চোখ ছলছল এই শ্রাবণের অভিমান যায় না

নাছোড়বান্দা এই অকবিকে

অনামিকা ছোঁয় না।

কত ঘাস?

সূর্য সেনগুপ্ত

কেউ গোনেনি ঘাস।

কত ঘাস আছে পৃথিবীর বুকের ওপর।

তারা যেন আদমসুমারীর কালে

ফুটপাথের বাসিন্দা মানুষ।

মৃত্যু

সুদীপ্ত বিশ্বাস

অহংকারী ভ্যানিটি ব্যাগটা 

মিলিয়ে গিয়েছে বুদ্বুদের মত ।

তিল তিল করে সঞ্চিত সম্পদ রয়েছে ছড়ান ।

ছড়ান রয়েছে সব উপহার

কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, প্রথম চুম্বন স্মৃতি, মুছে গেছে ।

নুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সযত্নে গ্রন্থিত মালা

সেটাও ছিঁড়েছে ।

আলগা হয়েছে ফুল থেকে ফুল।

বাসর ঘরের প্রথম রাতের প্রতিশ্রুতি নিয়ে

লম্বা কফিনের বাক্সটা এগিয়ে আসে

হাতে নিয়ে পৃথিবীর শেষ উপহার।

ছন্দের ডোর

সুমন কুমার সাহু

দুনিয়া তোমার হাতের মুঠোয়

শক্ত করে ধরো

স্বপ্ন জাগায় দিগ্বিজয়

সামনে এগিয়ে চলো ।


প্রেয়সী তোমার মুখের গ্লানি

কেন কান্নায় ঝরে পড়ে?

কাঁপছে আমার হৃদয় নাড়ি

দুর্জয় ছিনিয়ে নিতে ।


আমি যে ছন্দে গেঁথেছি পথের দিশা

কবিতায় শোনাব গান

স্বপ্নতরী মনের পাওয়া

ভালবাসা আহ্বান ।


জেনে রেখো ভাবনা নিশ্চল মোর

গভীরতা প্রেমসাগরে

ভালবাসা ছন্দের ডোর

তারই বন্দে কবিতা তোমাকে ।

31 আগস্ট, 2014

স্বপ্ন

স্বর্ণায়ু মৈত্র

অবাধ স্বপ্নটাকে মনে বেঁধে রাখি 

নিরবাক ল্যাম্পপোস্টে তার বিচিত্র আঁকিবুকি 

নিল ছাতার ভেতরে 

       ক্লান্তির শেষ ঘুম 

ফ্রাস্টেসনের ঔষধ রবীন্দ্র-সংগীত হয়ে বাজে 

''যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে 

        তবে একলা চল রে"

অঙ্কুরোদ্গম হয় না

অজয় দেবনাথ

দেশ দেশান্তর থেকে

বীজ বয়ে আনি;

জল নেই তাই

নষ্ট ভ্রূণের মতো পড়ে থাকে স্বপ্ন-

ফসিল কঙ্কালে ভরে ওঠে

আমার এই জাদুঘর।


কন্ঠনালী জুড়ে একটা গোটা চাতক

হাঁ করে বসে;

তবু

মরুতে অঙ্কুরোদ্গম হয় না।

ছু-মন্তর

কৃষানু নস্কর

উরে জায় পেঁচা; হতে মগজের খাঁচা।  

ধরে থাকো খাতা; ছোট ছোট পত্রপত্রিকা।

গপ্প গুজব; সুবিধার কেতা;

সব্বাই হবে; পুঁথির পোকা।

রঙ্গ বঙ্গ; খুঁড়ে সুরুঙ্গ;

পাইলে মুক্ত আমায় জানিয়ো।

আশ্চর্য

সুদীপ্ত বিশ্বাস

প্রতিটা মানুষ খুব ভালবাসা চায়

ভালবাসাকে বুকে জড়িয়ে, চুমু খেয়ে

ভালবাসার গভীর জলে অবগাহন করতে

        চায় সকলেই।

সকলেই চায় ভালবাসাকে ধরে রাখতে

        ভালবাসা মেখে পথ চলতে।

সকলেই বোঝে- 

পৃথিবীতে আমরণ প্রেম আর ভালবাসা ছাড়া

        আর কিছু নেই।

তবু মানুষ কেন ভালবাসতেই শিখল না ?

তবুও মানুষ কেন সবচেয়ে কম মূল্য দিল ভালবাসাকে ?

এই দুনিয়ার এটাই সবচেয়ে বড় আশ্চর্য...   

24 আগস্ট, 2014

জীবন মানে

সুদীপ্ত বিশ্বাস

জীবন মানে দখিন হাওয়া অল্প কিছু পাওয়া

জীবন মানে হিমেল বাতাস অনেক হারিয়ে যাওয়া।

জীবন মানে তরাই-ডুয়ার্স, ভাটিয়ালির গান

জীবন মানে কান্না-হাসি, অল্প অভিমান।

জীবন মানে দূর পাহাড়ের মাঝ রাতের আলো

জীবন মানে কালো মেঘে বিদ্যুৎ চমকাল।

জীবন মানে প্রজাপতি লাল ফুলটার পাশে

জীবন মানে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে আসে।

জীবন মানে এই ফুল তুই কার খুশিতে ফুটিস ?

থ্রিজির যুগে জীবন মানে ইঁদুর দৌড়ে ছুটিস... 

জীবন মানে একটু আলো একটু বেঁচে থাকা

জীবন মানে আকাশ জুড়ে রামধনুটা আঁকা 

জীবন মানে পাগল বাউল যায় না তাকে বোঝা 

জীবন মানে ভালবাসা, মিথ্যে মানে খোঁজা …

তোমাকে...

সূর্য সেনগুপ্ত

আমি যে ভালবাসি

অনেক, অশেষ

এই তো বেশ –

হৃদয়ের সব কটা জানালা খুলে দিয়ে

উড়িয়ে দাও প্রেয়সীর কেশ।

বাসনার পতাকার মত,

ছুঁড়ে দাও আবেগে সিক্ত চুম্বনের যত –

বকুল ফুলের সুবাসে

ওর হেসে

ফিরিয়ে দেবে সেই চুম্বন প্রিয়তমার ঠোঁটে

তখনই তো চাঁদ ওঠে,

ফুল ফোটে।

 

তখনই তো কোন এক খাত বুজে যাওয়া নদী

ভেসে যাবে সাঁড়াসাঁড়ি বানে,

তার টানে ভেসে যাবে আর সব কিছু,

যাহা আছে কম কিম্বা অনেক বেশী

 

শুধু বাকি রবে প্রেয়সীর হাসি*

আমি যে ভালবাসি।

হিহিহি হিহিহি ...।।

স্নিগ্ধ সত্যি

কৃষ্ণানু নস্কর

সীমানার ভিতর; গুলি বন্দুক আর মিথ্যে আপোশ।

তবে সত্যিটা কি বিজ্ঞান!

ছাতার মাথা;

বিজ্ঞান যদি সত্তি হবে; তবে কেন এত হানাহানি।

সত্যি বরই দুষ্কর চেনা; সেত গাছে পাকা আম;

সরকার যখন পালটাই; তার তো জলের দাম

সত্যি এই জগতে একটিমাত্র তাই..

জন্মেছি এই প্রেমের জন্য; মরতে হাবে তাই...

অতলান্তে তুমি...

অজয় দেবনাথ

ছেলেবেলায় পাহাড় দেখেছিলাম

বড় হয়ে আরো বড় পাহাড়।

তারও পরে পাহাড় আর আমি

আমি আর পাহাড়

মিলে মিশে একাকার।


তুমিও এরকমই এক সাগরের কথা বলেছিলে,

যেখানে তলিয়ে গেছে বড় বড় পাহাড়।

সাঁতরে দেখতে চেয়েছিলাম-

আপত্তি করেছিলে।

বলেছিলে,

‘তল পাওয়া যায় না তাই সমুদ্র অতল’;

তোমার মোকাবিলায় নেমেছিলাম সাগরে।

মনে হয়েছিল,

আমিই বিজয়ী তোমার অতলে।


তবু এ জয়

অস্বীকার করলে তুমি।

কিন্তু কাকে?

সাগরের সাঁতারু

নাকি আমার তলানিতেই তোমার অ-তল!

বোধকরি তুমিও জানো না।

আসলে

তোমার অতলান্তে

তুমি নিজেই জন্মান্ধ।

17 আগস্ট, 2014

আচেনা কবিতা

সূর্য সেনগুপ্ত

মনে হয় কিছু ছিল, আজ নেই। 

এরকম অনেকেরই মনে হয়।

কিন্তু কি ঠিক ছিল, যা নেই – ঠাহর হয় না।

অনেকে বালিশ উলটে দ্যাখে, আঁতিপাতি করে

বাতিল কাগজপত্র ঘাঁটে। 

কেউ কেউ পুরনো পাড়ায় ফিরে যায়।

অনেকে চুপচাপ শুয়ে ভাবে আর চোখ লেগে আসে।

বেলা বাড়ে, ভাত ধরে যায়।

সে আমাকে নাম দিতে মানা করেছে

কৃষ্ণানু নস্কর

আমি যে তাকেই চেয়েছি সে ভুলে গেছে।

কত রাত জেগেছি তা জানে দেয়াল ঘড়ি;

আমার ঘরের আয়না আর টিকটিকি।

কবিতা; টাকা হই নাকি, গাড়ি-বাড়ি, বিলিতি মদ;

ওটা তো সখে লিখি।

সখ করে সংসার পাতি; নারী হবার অহংকার করি। 

তাহলে আমার অতগুলো খসখসে পাতার কবিতা। 

ওগুলো জলাঞ্জলি দাও; তবু নাম দীয়নাকো।I

বিরহ

সুদীপ্ত বিশ্বাস 

সেটা স্পষ্ট ভাবে খোদাই হয়ে আছে

সেটা মরতে গিয়ে আবার বেঁচে ওঠে

তাকে মারব বলে মিথ্যে ছোটাছুটি

সেটা রোজ সকালে পদ্ম হয়ে ফোটে ।

সেটা হারিয়ে গেলে দারুণ ভাল হত

সেটা অনেক বেশি কষ্ট বয়ে আনে

সেটা দিনের শেষে নিদ্রা কেড়ে নেয়

সেটা কাঁটার মত বিঁধেই থাকে প্রাণে ।

তাকে এড়িয়ে যেতে দুহাতে চোখ ঢাকি

তাকে ভুলব বলে মিথ্যে ছুটে মরি 

তার মায়ার জালে বদ্ধ আমি আজও 

তার গভীর জলে ডোবে আমার তরি ।

তার শীতল বিষে জ্বলছে গোটা দেহ

তাকে  ভুলব বলে তিলক মাটি আঁকি

তার আবছা মুখে কাপড় ঢেকে দিলে

তার স্মৃতির কথা বলে ভোরের পাখি।

কবিতা তোমায়

স্বর্ণায়ু মৈত্র

কত নিঃসঙ্গতায় কবিতা তোমায় খুঁজেছি। 

তীব্র কাব্যের জ্বরে ক্লান্ত 

কত যণ্ত্রনা, কত আনিমিয়া 

উত্স থেকে হাসছে। 

ওদের চোখের শব্দ প্রেম 

তোমার কাছে টানে; 

আটকে রাখে ছন্দ জালে 

ক্লান্ত মনের ছোট্ট আবেদন- 

পথের শেষে, সাদা বিছানায় 

একটু জায়গা রেখ।     


বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা পাঠাতে হলে অভ্রতে টাইপ করে ওয়ার্ড ফাইল [email protected] আইডিতে মেইল করবেন

10 আগস্ট, 2014

প্রহর গোনা

স্বপন রেজা

যে পাখি

শীত কুয়াশার ভাঁজ আগলে রাখে

পালকের ভিতর।

অথচ

গ্রীষ্ম বার্তাবাহক না পাঠিয়ে যেন চলে আসে

কড়ানাড়ে অন্য দরজায়

ভয়ে মূর্ছা যাই, এ কেমন সন্ধি খেলা।

অতঃপর

মনের জানালা খুলে

জেগে থাকি অবিরত কুয়াশা ভাঁজের প্রতিক্ষায়।

ঝর্ণা পারের মেয়ে

সুদীপ্ত বিশ্বাস

ঝর্ণা পারের মেয়ে, তুমি স্বপ্ন হয়ে আসো

ঝর্ণা পারের মেয়ে, তুমি কাকে ভালোবাসো?

ঝর্ণা পারের মেয়ে, তুমি পাখির ডানা হবে?

ঝর্ণা পারের মেয়ে, আমি হারিয়ে গেছি কবে!

ঝর্ণা পারের মেয়ে, তুমি নদী হতে জানো?

ঝর্ণা পারের মেয়ে, একটু দখিন বাতাস আনো।

ঝর্ণা পারের মেয়ে, তুমি শুধুই অঙ্ক কষ?

ঝর্ণা পারের মেয়ে, তুমি একটু পাশে বসো।

ঝর্ণা পারের মেয়ে, তুমি উড়তে জানো, ঘুড়ি?

ঝর্ণা পারের মেয়ে, তুমি মন করেছ চুরি।

ঝর্ণা পারের মেয়ে, আমি স্বপ্ন দেখি খুব

ঝর্ণা পারের মেয়ে, আমি ডুব দিতে চাই, ডুব।

ঝর্ণা পারের মেয়ে, আমি হব নদীর মাঝি

ঝর্ণা পারের মেয়ে, আমি তোমার শর্তে রাজি।

ঝর্ণা পারের মেয়ে, চলো চাঁদের আলো মাখি

ঝর্ণা পারের মেয়ে, এসো, হাতটা হাতে রাখি...

তোমার জন্য

কৃষানু নস্কর

তোমার জন্য... দম দেওয়া আমি; ছুটছি সকাল-বিকেল-দুপুর

তোমার জন্য... আকাশ হতে খসছে তারা বুকের ভিতর

তোমার জন্য... চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া, নন্দনের উঠান

তোমার জন্য... লিখছি আমি, লিখেই যাব জীবনভোর

পাল্টাবে যখন আমাতে তুমি... বুঝবে তখন "জন্মান্তরে"

কাল সন্ধ্যের কবিতা

সূর্য সেনগুপ্ত

দরজা বন্ধ হবার শব্দ হল,

লিফটের নেমে যাবার শব্দ

রুক্ষ, কর্কশ।

তুমি চলে গেলে।

কেন চলে গেলে?


জেল ভাঙ্গা দস্যুদের মত

এক রাশ কুয়াশার ঝাঁক গলা টিপে ধরল

একাদশীর ক্ষীণ জ্যোৎস্নাকে,

রাতজাগা পাখীদের নীরবতায়

রাত্রি যেন আরও কালো, সিত, দুর্ভেদ্য।            

আমার একা থাকার রাত্তিরে কাল

জোনাকি জ্বলে নি। ফোটে নি সন্ধ্যামালতী।

কেন গেলে?


অন্ততঃ বলে গেলে পারতে,

কাল সকাল হবে কি না?

সময়

সুমন কুমার সাহু

বছরের প্রথম দিন থেকে

দিন লিপি লিখে গেছি

প্রতিটা পাতায় উদ্ভাসিত

মুহুর্তের প্রতিচ্ছবি

 

একে একে ভরে ওঠে

ডাইরীর পাতা গুলো

সময় দিয়েছে এগিয়ে

নতুন ঘটনার সূত্র

 

বছরের শেষে

মন পড়ে রয়

নতুন ডাইরীর খোঁজে

মন সরিয়ে

খানিক ভেবে

দেখি পেছন ফিরে

 

লেখা পাতা চাপা পড়ে আছে

শুধু পূরোনো ডাইরীটা চোখে পড়ে।

3 আগস্ট, 2014

চিঠি     

সূর্য সেনগুপ্ত

শোন, আমি আর অভিযোগ করব না,

কেউ শোনে না অভিযোগ।

অভিযোগ আসছে দেখলে

মানুষ দেওয়াল হয়ে যায়।

শুনলে কি? আমি আর অভিযোগ করব না।

চুপ করে থাকবো আর

আমার যত না করা অভিযোগ

জমতে থাকবে আমার শিরায় শিরায় -

বয়ে যাবে বাঁধনহারা বন্যার জলের মত

সারা শরীরের মধ্য দিয়ে,

রক্তচাপের সাথে সখ্যতা হবে সেই ঢেউদের, 

তারপর একদিন দুই বন্ধু মিলে

আমার হৃদয়ের ঠিক মাঝখানে গিয়ে

ফেটে পড়বে।

আমিই সত্যি বলছি তোমাকে,

আমি আমার ফেটে-ফুটে নষ্ট হয়ে যাওয়া

শিরাগুলোর আর আমার ভগ্ন হৃদয়ের জন্য

কারুর কাছে অভিযোগ করবো না।

খিলখিলিয়ে

কৃষানু নস্কর

কবি; কি করে - পায়ে হেটে চলে,

আর লেখক - সাইকেল চড়ে I

তাহোলে গাড়ি - যারা চাকরি করে,

আর নেতা - ওরা সব পারে ।

তাহলে আমরা কি করব ... 

খিলখিলিয়ে হাসবI



বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা পাঠাতে হলে অভ্রতে টাইপ করে ওয়ার্ড ফাইল [email protected] আইডিতে মেইল করবেন

অধ্যয়ন

স্বপন রেজা

প্রতিনিয়ত

তোমাকে নিয়ে অধ্যয়ন করি

আগুন নালী সিগারেটের ভিতর ঢুকে ধুকে ধুকে ঝলসে যায়।

কুলাভর্তি পোড়া গন্ধের ছাই বাউরি বাতাসে উড়ে যায়

অথচ

কলমের খোরাক জোগাড় করতে পারিনি।

শুধু

প্রতিনিয়ত

তোমাকে নিয়ে অধ্যয়ন করে চলেছি মাত্র।

প্রেম তুমি জটিল হ-ও

অমিত কারক

প্রেম তুমি আরো জরিল হ-ও

অহেতুক,               

নবান্নের পায়েসের মত

বারে বারে ফিরে আসার কোনো দরকার নেই|

প্রেম তুমি আরো জটিল হ-ও

মৃত্যুর থেকে আরো ভয়ঙ্কর

খড়া অথবা বন্যার মত মমতাহীন বিভত্ষ হ-ও| 

এত সহজে তোমাকে ফিরে পেতে চায়না মন,

চোখের জল

আর বুক ফাটা আর্তনাদের ফাটল হতে 

তোমার জন্ম হোক|

প্রেম তুমি আরো জটিল হ-ও

আরো জটিল,

সুনীল আলোর ভেতর হতে

সুনামীর প্রবল বিধ্বংসী হয়ে

প্রশান্ত সমুদ্রের বুকে মুখ ঢাকো|

তোমাকে পাওয়া এত সহজ নয়

এটা বুঝিয়ে দাও বারে বারে|

তাই প্রমে তুমি আরো জটিল

আরো জটিল

প্রশান্ত নীবির ছায়াটাকে বারে বারে পরখ করে নাও

বুঝে নাও, জেনে নাও

পারলে খুন কোরো,

পারলে বুকের মাঝে চেপে গভীর চুম্বন দিও|

27 জুলাই, 2014

কলিকাতা হাসে মিটি মিটি

অমিত কারক

লক্ষ কোটি মানুষের ভীর

যানজট ধুলি মাখা ধোঁয়া

শ্বাসরুদ্ধ অবচেতন কলিকাতা

তীব্র যানজটে নাকাল|

হেলে দুলে চলে ট্রাম

জীবনের ভীত কাঁপে

বেঁচে থাকা ভীষণ কঠিন|

এক পশলা বৃষ্টি

স্পর্শ করে নাভি,

ছোট্ট ছেলেটা          

কাগজের নৌকা গড়ে স্কুলে যায়|

ফুটপাতে মাথা তুলে পাগলের ভীর

যারা আসল পাগল

ডুবুরির বেসে ধরে মীন|

এই ভাবে চলেছে দীর্ঘকাল

ধর্মঘট, মিছিল, বন্ধ,

মারামারি, খুনোখুনি

কলিকাতা তবু স্তব্ধ

রাত্রি নামিলেই অনামিকা আঁধার চুমু খায়,

কৃত্রিম জোনাকি

নিষিদ্ধ বাসরে আলো দেয়

কলিকাতা হাসে মিটি মিটি| 

হৃদয় ভেঙে কান্না ঝরে...

সুদীপ্ত বিশ্বাস 

যেদিন দুজন ছিটকে গেলাম

নিকট থেকে অনেক দূরে

পথ হারিয়ে চলল পথিক

পথ ভোলা দিকশূন্যপুরে।


হাজার শপথ মিথ্যে হল

মিথ্যে হল মান অভিমান

যত্নে গড়া স্বচ্ছ স্ফটিক

এক নিমেষে ভেঙে খান খান।


ভেঙে ফ্যালা কতই সহজ!

শুখায় সাগর, শুখায় সিন্ধু

মিথ্যে ঝরে অশ্রু ফোঁটা

মিথ্যে ঝরে রক্ত বিন্দু।


যে নাম ছিল দারুণ প্রিয়

যে নাম ছিল মনটা জুড়ে 

সে নাম এখন কাঁদায় শুধু

দুঃখ আনে হৃদয় খুঁড়ে।


কোথায় পাব সে তাজমহল

সে সব এখন শূন্য, ফাঁকা 

স্মৃতির পাতার সবটা জুড়ে

বিষাদ মাখা দুঃখ আঁকা।


আবার যদি হয় গো দ্যাখা

অনেক অনেক বছর পরে? 

বাঁধ মানে না অশ্রু ধারা 

হৃদয় ভেঙে কান্না ঝরে... 

অনামিকা

কৃষ্ণেন্দু নস্কর

অনামিকা,

আমাকে তো তুমি এভাবে একা ছেড়ে দিয়ে চলে চলে গেলে,

নিঃশব্দে। 

আমি হয়তবা হারিয়ে গেছি মৌলিক ধাধায়,

তুবউ আমার কবিতা;

কিন্তু বেচে থাকবে, তোমার চিন্তা করে।

বিবৃতি

স্বপন রেজা

রোদের ওপাশে দেয়াল ভাঙ্গা পুরান ইট

আমার বিবৃতি কার কাছে দিব -


কচ্ছপ

যে মেঘের শব্দে মুখ লুকিয়ে রাখে প্রতিরোধ্য খোপে

নাকি শৃগাল

এর চেয়ে ভালো ঈশ্বর প্রার্থনা।


টিউবের ভিতরে বন্দী বীজ

সময়ের তাপে মৃত ভ্রুণের বাকল ভেসে ওঠে ঘোলা জলে।

বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা পাঠাতে হলে অভ্রতে টাইপ করে ওয়ার্ড ফাইল [email protected] আইডিতে মেইল করবেন

আমার জন্মদিন

সূর্য সেনগুপ্ত

এর রাশ মানব, মানবী

ফসিল তারিখটাকে

খুঁড়ে খুঁড়ে বার করল

কালের উঁচু হয়ে থাকা

ঢিবিটা থেকে

সেই পাটাতনে এখনও

আবছা হয়ে ফুটে আছে

আমার তরুণী মায়ের ছবি,

পেছনে নজর দিয়ে আন্দাজ

করলে পাওয়া যাবে

ধুতি শার্ট পরিহিত গর্বিত পিতৃদেবকে।

হে উদ্যমী মানব মানবীগণ,

ইতিহাস পেরিয়ে প্রত্নতত্ত্ব

হয়ে যাওয়া আমার জন্মদিনের তরে

স্কন্ধে বহন করেচ শুভেচ্ছা অনেক,

যেন খ্রিষ্টের ক্রস। ভাবনি বাকি তিনশচৌষট্টিদের

কি হবে।

 

সুখী হবে

তোমাদের সদ্ভাবনা এসে

মর্মে প্রবেশ করবে

এমন কি বেঁচে থাকবে ক’দিনের

নিশীথ রাতের জেগে থাকার পাতায়।

নাক ডাকা

সোমঙ্কর লাহিড়ী

কিরে, তোর নাকি নাক ডাকে?

কে বলেছে? ডাক তাকে!

তোর জিনি বস হন অফিসে,

বোঝো কথা! সে এটা কোয়েসে?

তিনি বটে ছিটেল সামান্য,

ভোরে গান ধরেন জঘন্য,

ছোট বড় ঝুলপিও দুগালে,

সেই লোক তোকে বোকা বানালে?

 

হরিপদ, যে তোদের চা বানায়,

ওর কথা? শোন বলি তা তোমায়!

নিজের তালে সে চলে,

চা বানিয়ে ঘি ঢালে,

সেও বোকা বানিয়েছে কি তোমায়?

তোমার তো শার্প মাথা!

শোনো কেন ওর কথা?

এই সব লোকে দেশ ডোবালে!

 

তোদের যে ক্যাশিয়ার মুখুজ্জে, কি যেন?

ওর কথা? বলি তবে মন দিয়ে তা শোন

বউ ওর খান্ডার,

গলা তো না, থান্ডার!

ওর কথা শেষ কিনা তুমি ভেবে নিলে ঠিক?

যার কোন জ্ঞ্যান নেই এইদিক ঐদিক?

সেই দিন দেখি, বউ চেপে ধরে দেয়ালে

মৃদু এক ঘুষি দিল ওর ডান চোয়ালে।

 

সব লোক অফিসেতে বলে তোর নাকডাকে!

ওসব গুজব ভায়া, ওতে কেউ কান পাতে?

সত্যিতে হয় যেটা,

বলছি তোমায় সেটা,

আসলে আমার কাজ ইন্টারনেটই করে,

চোখবুঝে আমি শুধু যাই তার ভুল ধরে।

ভুল হলে ওকে দিই বোকে

নাকডাকা ভাবে সেটা লোকে।

20 জুলাই, 2014

কবির প্রত্যাবর্তন

সুদীপ্ত বিশ্বাস

জীবনানন্দ কবিতার কারিগর 

এই বাংলার ধানসিঁড়িটির তীরে 

হয়তো বা হাঁস নয়তো অন্য রূপে 

বাংলার কবি ঠিক আসবেন ফিরে। 


যেখানে সবুজ যেখানে কাঁঠাল বট 

জারুল হিজল চিল শালিখের ভিড় 

কুয়াশার বুকে একদিন তিনি ঠিক 

ফিরে আসবেন ধানসিঁড়িটির তীর । 


ঘন কুয়াশায় হাজার বছর হেঁটে  

কাঁঠাল ছায়ায় মাঠ ঘাট ভালবেসে 

নীলাভ আকাশে সজিনার ফুল নিয়ে 

ফিরে আসবেন কবিতার এই দেশে। 


মাঝ রাত্তিরে যখন ঝরবে ধান 

চড়ুই যখন কাঁঠালি চাঁপার নীড়ে 

সোঁদা সোঁদা জলে শিশির গন্ধ মাখা 

কবি ফিরবেন ধানসিঁড়িটির তীরে।

গুগলি, শামুক মলিন শ্যাওলা মাখা

গ্রাম বাংলার অনামি পুকুর পাড়,

মাঠের ইঁদুর ফণীমনসার ঝোপ

উপাদান হবে তার সব কবিতার।


মধুকর ডিঙা যাবে চম্পার কাছে

ভোরের দোয়েল আবার শোনাবে গান

অক্ষর দিয়ে কবি আঁকবেন ছবি

মায়াবী ছন্দ একটানা যার তান।


রূপসার জলে হয়তো কিশোর হয়ে

শাদা ছেঁড়া পালে ডিঙি তিনি বইবেন

হয়তো আবার আসবে শান্তি নিয়ে

নাটরের মেয়ে সেই বনলতা সেন...  

আমার জীবনানন্দ

সূর্য সেনগুপ্ত

এখনো মেলায়নি রাত্রির গন্ধ

কার্তিকের ভোরে,

কুয়াশা রঙ খোঁজে জেগে ওঠা

পাখীদের ডোরে,

ঘাসের শীষে শীষে

শিশিরের শব্দ ঘোরে,

আহা, প্রতিধ্বনিত হয় শঙ্খচীলের ডাক,

ধানসিঁড়ি নদীর ঢেউয়ের ছপাৎ ছপাৎ

জলপিপি হেঁটে যাওয়া কাদা কাদা পাড়ে।

এবার ভোর হবে।

ভাত-মাছ-রুটি

কৃষ্ণেন্দু নস্কর

রেখে যেও ঘড়ি, আমার বাড়ি ;

সময় রাখব কাছে। 

জ্বালা ভরা পেট, খেয়ে হাফ প্লেট ;

বেছে যাব, কাটা মাছের। 

নুয়ে পরা সুখ, বাচবে হুজুগ ;

এখনো হাজার বছর। 

ফিস ফিস কথা, পিন মারা মাথা ;

হাওয়াতে বাজবে সিটি।

তবু বাঙালি বকে যাব আমি ;

খেয়ে ভাত মাছ রুটি।।

বনসাই আত্মীয়তা

শান্তনু সান্যাল 

রোজ সকালে দেখি সে দাঁড়িয়ে থাকে,

পার্কের বাইরে, ঠিক অমলতাসের

নিছে, আবছা আলোয় চেয়ে

রয় যেন সুদুর প্রান্তরে,

হয়'ত খুঁজে লুপ্ত শৈশবের

কিছু বিশৃঙ্খল দিনগুলি, মন তখন - -

কাঁদা মাটি পেরিয়ে পুকুর পারে,

যেন দৌড়িয়ে যেতে চায়,

কাচিক ডানাওয়ালা

ফড়িং এর পিছনে, ধরতে চায় ওই

ছদ্মবেশী প্রজাপতি, যে উড়ে

চলেছে নয়নতারার ঝোপে, 

তার নিবন্ত

চোখের ভাষা বুঝতে খুব ইচ্ছে করে,

দেখা হলেই কিন্তু আমি ভুলে

যাই সব কিছু, সামনে

দাঁড়িয়ে রয় শুধুই

কংক্রিটের জঙ্গল,

আর বামনগাছের সারি, নিঃশ্বাসটা

ও যেন কেমন পর পর লাগে,

উপায় কিছুই নাই, তাই

বনসাই আত্মীয়তা

জড়িয়ে রাখি বুকে --

13 জুলাই, 2014

ল্যান্সিং এ আইলীং

হিল্লোল রায়

(১)

হল্যাপিনো-মেয়োনীজ সহযোগে রান্না,

খাওয়া শেষে আইলীং জুড়ে দিলো কান্না!

ঝোল-ঝাল, ভাজাভুজি, টক দৈ, মিষ্টি ,

এ সবের থাকে তার কড়া খুব দিষ্টি!

'ছিলিম' ফিগার চায় সব থেকে আগে ,

কটি দেশ ভারী হলে লাজ এসে লাগে !


২)

বেলা কাটে ফেসবুক-এ “নেকড়ে” কে ধরতে,

SMS করে দিয়ে চলে যায় চরতে !

'ম্যাশকারা', 'আই-ল্যাশ' সদা থাকে সংগী,

আঁকা ভুরু, হাই হিলে নাচে তার ভংগী !

এ্যারোমা থেরাপী ও ফেসিয়াল -বাদ নেই কিছু,

“নেকড়ে”-র দলও তাই ঘোরে তার পিছু !


৩)

খেয়ে গোটা রম্ভা, থুম্বা-য় জুম্বা, হপস্কচ ও ড্যান্সিং

শিখে  নিয়ে পাড়ি দিলো মিশিগান ল্যান্সিং!

আমি হই “কেজ ফ্রি”, শুনি না যে বায়না,

বেড রুমে হাঁফ ছাড়ে, ঝাড়বাতি, আয়না!

হায়! ভাবি বসে চলে যাই হিমালয়-চায়না,

দুখ চেটে খেয়ে নিক “ নেপালীজ হায়না”!

বড় একা লাগে

কৃষ্ণেন্দু নস্কর

তুমি আমাকে সইতে পারনা,

কিন্তু সে পারত,

আমি হাসলে ; তুমি হাসবে -

নতুবা দাতে দাত চিপে থাকবে ।

কাছে আসবে বলে কত হাবিজাবি ভাব এখন তুমি,

আর, সে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরত আমায় ।

তোমার সংসয় কষটদেয় /ভাবায় তবু কাদাতে পারবেনা

'তার মত' ;

সে আমায় চিন্ত আমার মতন করে

প্রটিগ্গা করেছিল,

আমার ভবিস্যত আগলে রাখবে বলে,

আমাকে সঞ্চয় করে রাখবে তার জীবনে

তোবু ,

তোমার দুধসাদা রং, চওরা কপাল, পরিপাটি শরির ,

সুভাষিত তক , টেনেছে আমায় ।

ভুলিয়েচি তার,

ফাস্ফাসে কথা, এলোমেলো চুল, অগোছালো শরির ।

আমার লালসার আজ সময় পেরিয়ে গেছে,

চাহিদারও বয়স হোএছে ;

আমি জানি, খমা সে করবেনা আমায় কোনদিন

পাত্বেনা জাল সংসার আমার মতন ।

তবু বিশ্বাস রেখে যাই, এই কবিতার পাতায় ,

দেয় যেন মুছে সে, মন থেকে আমায় ।I

ইদানিং আমাদের কিছু সাময়িক অসুবিধার কারণে, প্রকাশিত লেখার লেখক বা কবিদের জানাতে পারছি না কোন সংখ্যায় কার লেখা প্রকাশিত হল, তাই বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনে যাঁরা লেখা পাঠাচ্ছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা য়েন বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনটি নিয়মিত দেখে নেন...

বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনের ফেসবুক পেজটি লাইক করে নিন, তাহলে আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নিয়মিত জানতে পারবেন, কোন সংখ্যায় কোন কোন লেখা প্রকাশিত হল| (বাংলা সাহিত্য টিম)

কোন মতে বেঁচে থাকা

সূর্য সেনগুপ্ত

‘কোন মতে বেঁচে থাকা’ – হে মোর

একমাত্র ঈশ্বর, আর কোন সুটেবেল

নামই তো পেলাম না তোমার -

তাই ডাকি, পূজি ‘কোন মতে বেঁচে থাকা’ বলে।

আজো কোন মূর্তি গড়ে তুলতে পারিনি তোমার।

হে নিরাকার,

তোমার নামে পাইনি কোন

ব্যাসাল্টের শিলা, অশ্বত্থ বৃক্ষের তলদেশে

লাল সিদুঁরে আপ্লুত,

কিম্বা স্বপ্নাদেশে মাটি খুঁড়ে প্রাপ্ত

পাঁচ কি ছয় হাত বিশিষ্ট প্রাগৈতিহাসিক মূর্তি।

নেই  সুদৃশ কুরুশের কাজ করা, শুভ্র

ঢাকনা দেওয়া নীচু জলচৌকি, অথবা

দেওয়ালে টাঙানো আমকাঠের

মন্দির, মন্দির।

 

হে মোর কোন মতে বেঁচে থাকা দেবতা

আর কেউ আমার আরাধ্য নয় –

রাধা, কৃষ্ণ, দুর্গা, কালী, ওলাইচন্ডী, মনসা, শেতলা,

দেবাদিদেব মহাদেব। কেউ না।

নেই কোন দাড়িওয়ালা গুরু, গেরুয়া

কিম্বা রক্তাম্বর পরিহিত, কণ্ঠে শোভে রুদ্রাক্ষ।  

শহরে শহরে শহরে (গ্রামে গঞ্জে কদাপি নয়)

শিষ্য সমভিব্যহারে অন্য শিষ্যগৃহে

লুচি সন্দেশ সেবন করে বেড়ান।

 

তোমারই করুণায় চোখ মেলি রোজ,

নাকে আসে ফুলের সুবাস, দেখি পাখী ওড়ে,

মেঘ জমে চাঁদের ওপর। বর্ষণে রাস্তার কর্দম

আর নস্টালজিয়া মাখামাখি হয়ে যায়।

কি তব অনুকম্পা যে ধনুবাবু প্রত্যহ শুধন,

কি ভাল তো?

 

তুমিই মোর একমাত্র অর্চনার ধন,

যত স্তুতি, স্তবন সব তোমারি লাগিয়া –

কোন মতে বেঁচে আছি,

শ্মশান থেকে দূরে আছি আজও -

তোমার জয় হোক।।

সামার ফ্রস্ট

সীমা ব্যানার্জী-রায়

হাতের কাছে নেই সমুদ্র, বিষন্নতায় ভরা পানসী

আগুন ভেজা মস্ত ফানুস উড়ছে রাত্রিদিনই

রাক্ষসী দুপুর ছেড়েও ছাড়ে না, ,  টেনেছে বুকের কাছে

ওল-পালট  এ-পথ দেখি সর্বত্রে আছে।


শতাব্দীর একতীরে বসে কেবলই শুনি

অন্যতীরে তাল পড়ে ভরা ভাদ্রমাসে

হায়! সেই সত্যকে টেনে   হিঁচড়ে আনি

মন জুড়োতে প্রবাসের খরা বাতাসে।


বর্তমান মনে হয় অতীতের টেলিগ্রাফ- পোস্ট

কেন তুমি আজো বুঝতে শিখলে না রোস্ট

তালবাগানের সূর্যকে দেখেছিলাম পূবে পশ্চিমেও

প্রচ্ছদ পুরানো অস্থিরতার স্থির -ছবি ক্রমে।


হয়তো আমার লক্ষ্য কিছু নিছক গবেষণার

ভাবতে বসি,   কবিতার পলেস্তারা কি সত্যি হবার?

জানি, তৃষ্ণা থাকা ভালো না কিছুতেই ভালো নয়

শূন্য ভালবাসাতে কি আর সমুদ্র শুকায়।

6 জুলাই, 2014

ওরে পোড়া মন

কৃষ্ণেন্দু নস্কর

ধূসর বিকেল; নেমে আসে বেঁকে ;

ধরে, 

রিকত সূর্য রেখা।

ওরে পোড়ামোন; চুপ করে শোন্ ;

আসছে বিদায়বেলা।

স্বৃতি-গুলো শেষ, ছিড়ে দিয়ে রেশ ;

ফেলে দেব দাবানলে। 

চলে যাবি শেষে; জোত্সনার দেশে ;

ভাসিয়ে অশ্রু ভেলা।

যদি হাসফাস, করে তোর শ্বাস ;

তাকাবিনা তবু পীছে।

ওরে পোড়ামোন; পুড়বে এ দেহ ;

দেখবি ছদ্দবেশে।

পঁয়ত্রিশ পেরনোর পর   

সুদীপ্ত বিশ্বাস 

পঁয়ত্রিশ পেরনোর পর

ঘেমো ভ্যাপসা বিবর্ণ দিনগুলো

আসছে আর যাচ্ছে।

কেন বেঁচে আছি, কি জন্যই বা বেঁচে আছি 

বেমালুম ভুলে, একগাদা কম্প্রোমাইজ নিয়ে

কেটে যাচ্ছে ফ্ল্যাট অফিস, অফিস ফ্ল্যাট- শামুক জীবন।

আর ফোঁস করি না এখন

পঁয়ত্রিশ পেরনোর পর

প্রতিবাদের ক্ষমতা চলে গেছে

পঁয়ত্রিশ ঢোঁড়া আর গোখরোর জল বিভাজিকা।

কবিতা পাঠান : [email protected]

29 জুন, 2014

পায়ের ছাপ

সূর্য সেনগুপ্ত

তোমার যাবার সময় দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে পারিনি। 

দুটো পাল্লাই খোলা পড়ে আছে, 

বাইরে দেখা যাচ্ছে পৃথিবী – অন্তর্দাহে স্তব্ধ।

দেখা যাচ্ছে মাটিতে তোমার পায়ের ছাপ,

চৌকাঠের ওপারে – 

একটু যেন ভিজে, অচেনা।


শ্রাবণের সন্ধ্যার মত মন খারাপ নামল 

ধূসর তমিস্র আলোকহীন।


রাত্রে বৃষ্টি নামবে। 

ধুয়ে যাবে পায়ের ছাপ, অচেনা।

ঝাউ গাছের পাতা

সুদীপ্ত বিশ্বাস

ঝাউ গাছের পাতা, তুমি স্বপ্ন হয়ে আসো 

ঝাউ গাছের পাতা, তুমি কাকে ভালোবাসো? 

ঝাউ গাছের পাতা, তুমি পাখির ডানা হবে?

ঝাউ গাছের পাতা, আমি হারিয়ে গেছি কবে!

ঝাউ গাছের পাতা, তুমি নদী হতে জানো?

ঝাউ গাছের পাতা, একটু দখিন বাতাস আনো।

ঝাউ গাছের পাতা, তুমি শুধুই অঙ্ক কষ?

ঝাউ গাছের পাতা, তুমি একটু পাশে বসো।

ঝাউ গাছের পাতা, তুমি উড়তে জানো, ঘুড়ি? 

ঝাউ গাছের পাতা, তুমি মন করেছ চুরি।

ঝাউ গাছের পাতা, আমি স্বপ্ন দেখি খুব

ঝাউ গাছের পাতা, আমি ডুব দিতে চাই, ডুব।

ঝাউ গাছের পাতা, আমি হব নদীর মাঝি 

ঝাউ গাছের পাতা, আমি তোমার শর্তে রাজি।

ঝাউ গাছের পাতা, চলো চাঁদের আলো মাখি

ঝাউ গাছের পাতা, এসো, হাতটা হাতে রাখি... 

নারী

কৃষ্ণেন্দু নস্কর

পূর্ণতা দিয়েছ –

নদী, ঝরনা আর ওই বৃষ্টি ভেজা সবুজ পাতাকে।

গুড়িয়ে দিয়েছ সব জাগতিক অহঙ্কার।

চিরে দিয়ে বুক পাহাড়ের,

ভরিয়েছ কুম্ভ অমৃতের। 


তোমার রূপে সেজেছে,

মা দুর্গা; লক্ষ্মী; আর সরস্বতী।

তোমার স্পর্শে এখনো মেলে,

লোপামূদরা, সীতা অথবা দ্রউপদির অনুভুতি।

লড়েছ লড়াই,

ঝান্সির রানি, প্রিতিলতা অথবা কল্পনা হয়ে।

জলেছ; তোমার পুরুষের তরে,

কখনবা চিতায়; কখনও অগ্নিকুম্ভে।


পেয়েছ মুক্তি ভাষায়; রক্ষনসিল দার্শনিকের,

কখনো তলস্তয় অথবা জজ্ঞের পুরহিতের।

যে মুক্তি আজও লুকিএ রাখা আছে, ওই মন্দিরের বিগ্রহে; 

বেদ আর উপনিষদের পাতায়ে।।

22 জুন, 2014

বড় একা লাগে

কৃশানু নস্কর

তুমি আমাকে সইতে পারনা,

কিন্তু সে পারত,

আমি হাসলে ; তুমি হাসবে -

নতুবা দাতে দাত চিপে থাকবে ।


কাছে আসবে বলে কত হাবিজাবি ভাব এখন তুমি,

আর, সে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরত আমায় ।

তোমার সংসয় কষটদেয় /ভাবায় তবু কাদাতে পারবেনা

'তার মত' ;


সে আমায় চিন্ত আমার মতন করে

প্রটিগ্গা করেছিল,

আমার ভবিস্যত আগলে রাখবে বলে,

আমাকে সঞ্চয় করে রাখবে তার জীবনে


তবু,

তোমার দুধসাদা রং, চওরা কপাল, পরিপাটি শরীর,

সুভাষিত তক , টেনেছে আমায় ।

ভুলিয়েচি তার,

ফাস্ফাসে কথা, এলোমেলো চুল, অগোছালো শরীর ।


আমার লালসার আজ সময় পেরিয়ে গেছে,

চাহিদারও বয়স হয়েছে ;

আমি জানি, ক্ষমা সে করবে না আমায় কোনদিন

পাত্বেনা জাল সংসার আমার মতন ।


তবু বিশ্বাস রেখে যাই, এই কবিতার পাতায় ,

দেয় যেন মুছে  সে, মন থেকে আমায় ।I

প্রেম 

সুমন কুমার সাহু 

স্টাইলিষ্ট সিগারেট পাঁজরে ধরেছে ক্ষয় 

একাকিত্বের ঘর আঁধারে কবিতাময় । 


একঘেয়ে রেল লাইনের ছুটে চলা 

ভর দুপুরের নিশ্বাস , 

ঘুম চোখে রোদ চসমায় জাগা

ছেঁড়া বিছানার বিশ্বাস ।  


ভালবাসা এক কাপ চামচে চোখের জল 

চুমুকের যৌনতা ইতিহাসে ফলাফল ।।

পনেরো বছর

সোমনাথ মান্না

মইদুল আমার পাশের খাতা, মাধ্যমিক-এর পরিমিতি,

সিগারেট ওর অঙ্কে একশো, আমরা ছিলাম অর্থনীতি,

আমরা তখন বিকেল বেলা, আমরা তখন নদীর ধার,

আমি, অমিত, বকুল, কুঞ্জ, মোহর, বেলা আর উপহার l


অর্থনীতি কাঁদছে তখন, হাত গুনেছে একুশ শতক,

রাজনীতি আর শব-ধর্ম, গুমরে মরেছে মাস কতক l


মইদুল রোজ কলেজ ব্যাগে, যন্ত্র নিয়ে বড়াই করে,

শিখেছে ভাষা নতুন নতুন, সি প্লাস প্লাস এ আবেগ ভরে,

বকুল, আমি, মোহর, বেলা, এক কলেজে ক্লাস্-রুমে,

এঁকেছি স্বপ্ন আঁকশি দিয়ে, সাহিত্যের জানলা বেয়ে l


আমরা তখন আলোকমালা, বই-পাড়া থেকে পার্ক-স্ট্রিট,

আমরা তখন বিয়ার- ভদকা, বাংলা ব্যান্ড-এ সুপার হিট l


কুঞ্জ তার বাবা-কে হারিয়ে কলেজ দেখেনি কখনো,

পাশের পাড়ার গ্যারেজে কুঞ্জ, গায়ে কার্বন মাখাল,

অমিত তখন বাবার গাড়ি, ইংল্যান্ড-এ দিল পাড়ি,

শুনেছি অমিত উকিল এখন, আমার সাথে ভীষন আঁড়ি l


সত্তর বছর হতে চললো সাহেব করেছে টাটা,

তবুও আমরা নির্ভেজাল সাহেবেরই পা চাটা l


বকুল- বেলা এখন সুখেই আছে , বালিগঞ্জ এর ফ্ল্যাটে,

দুই মেয়েতে আছে একা, হাজার চোখে দিয়ে ঢাকা,

আমি-মোহর আগেও চ্ছিলাম, এখনও আছি সাথে,

কবিতা লিখি, ভাত জোটে না, চৌকোনা ফুটপাতে l


রাজনীতি তার রং ধুয়েছে, দিন গুনেছে গরিব লোক,

গরীব রা তো গরীব ছিলই , পাল্টে গেছে বড়লোক l


মোহর আমি মিলে-মিশে, মহীম এলো বছর দুয়েক,

মোহর এখন বাংলা পড়ায়ে, মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয়ে ,

সেদিন রাতে মোহর গুনে ভাবছি হবো নীলচে সময় , 

হটাত্ আমার ফোন বাজলো , দুলিয়ে দিয়ে বিশ্বময় l


বছর পনেরো আগেও , কঠিন ছিলো দূরের আভাস,

নরম ছিলো মন, দূরের মানুষ কাছে এলো বাজিয়ে টেলিফোন |


উপহারের বাবা তাকে,  উপহার দিয়েছে আমদানি করা বর ,

তাই কাছের মানুষ মঈদুল আজ, তার অনেক অনেক পর ,

মঈদুল বলে , চাকরিটা ভাই হারিয়েছি আমি.... শুনছিস ?

কবি ভাবে, ভাত জোটে না তুই কাকে... কি বলছিস !


বছর পনেরো আগেও সময়টা এমন ছিলো না,

রঙ্গিন ছিল, রঙ্গিনই হতো, সময় তা হতে দিলো না |

15 জুন 2014 

আমাদের কালো সাম্যগান

মিতুল দত্ত 

১. 

স্বপ্নের ফানুসে আমি মোম ঢেলে ভেবেছি, সবুজ 

আত্মারা এগিয়ে যাচ্ছে, বিয়ের দালানে কার 

দড়ি ধরে মেরেছি সটান 

আচমকা বায়ব এক কানামাছি, প্রিয় অভিরাম 

কড়িখেলা ভুলে গেছি, চালের কৌটোর মধ্যে 

বেড়ে ওঠা সোনার গোসাপ 

আমাকেই লবঙ্গলতিকা বলে গাল দিয়ে 

বনে মিশে যাচ্ছে, কিছু করো 


২. 

হার্মাদ হার্মাদ বলে কাকে ডাকি, কারা এসে পড়ে 

ভুল প্রেম শুঁকে শুঁকে জিভে খড়ি পড়ে গেছে 

তবু নক্ষত্রে হেলান দেব ভাবি 

পায়ের নূপুরে এত ব্লেড 

নাচ মেরে বুলবুল বলে নাচিয়েছি সাত অক্ষৌহিণী 

ঘোড়া ধরে নিয়েছি যজ্ঞের 

রথের চাকার নিচে ছিলে নাকি? 

খেয়াল করিনি 


৩. 

বিকেলে কী ফেরি করি 

ভোলামন, হ্যাঁচকা টানে কালোয়াতি 

ঘুচে যাচ্ছে, ইঁদুর ধরেছি কোন 

শতাব্দীতে, বিষণ্ণ যক্ষের বাড়ি 

কতদিন যাইনি তবু 

হোয়াংহো তোলপাড় হয়ে গেছে 

'এসব গাম্বাট ভূত কোত্থেকে জোটাও' বলে 

আমাকেই তুলোধোনা ধুনে দিল 

সুজন, গন্ধের চাষ হয়েছে এদিকে 

কাদের বগল চেটে কারা আজও পার পেয়ে গেল 


৪. 

ঘটকবাড়ির দিকে তিন পায়ে খাড়া হয়ে আছ 

ভোরের চৌহদ্দি, তার ভেতরে যে অম্লশূল 

শুয়ে আছে, প্রস্তাব তাদের কানে পৌঁছতে পারেনি 

ঘটা ঘটা বর্ষার রচনা 

মুখস্থ করাই কাজ, অথচ পরীক্ষাহলে 

শরৎ বাবুর খোলা চিঠি 

এসব ঢ্যামনামো দেখে বড়ো হচ্ছ 

মানতাসার রাজ্যে তুমি আকাট বামন 

দক্ষিণে তোমার মুখ 

উত্তরে পশ্চিমে তুমি শুয়ে 

দোদোমা ফাটাচ্ছে পুবে তোমার বন্ধুরা

মহাকালের ঊর্মিমালায়

সাগর ভট্টাচার্য্য

এখন একটু দেখতে দাও তোমায়

একটু চোখে চোখ রাখো —

দেখো, দিনগুলি এখন দারুণ দামালো;

সাবধানে থাকতে হবে আমাদের

এই উদ্দাম দিনগুলি যেন

গড়াতে গড়াতে না পড়ে যায় মহাকালের ঊর্মিমালায়!


আমার ভালবাসাগুলোকে নিয়েই আমার চিন্তা,

এই সেই বয়েস যখন

কাছের জিনিস দেখতে অনুবিক্ষণ যন্ত্র লাগে

অথচ দূরের বস্তু ভীষণ সুস্পষ্ট!

এখনই হঠাৎই মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়তে পড়তে

মনে হয়     একটা অবলম্বন নিলে ভাল হ'ত|


সময়ের পেছনে তাকালে এখন দেখতে পাই

সিংহের কেশর ফুলিয়ে বিপুল গর্জনে

ধেয়ে আসছে ঢেউ..

মহাসমুদ্র- মহাকালে

রসাতলে কেউ

নিয়ে যাচ্ছে ক্রমশঃ টেনে হিঁচড়ে  যে ভাবে পারে—

তাকে আমায় নিতেই হবে|


আজও পিচ ঢালা রাস্তায় তাকাতে ভয় হয়,

সেখানে ছড়িয়ে আছে আমার ভালবাসার রক্ত!

ক্লাবঘরের দেওয়ালে আজও লেগে আছে

আমার লেখা রক্তমাখা কবিতা —

গুলির দাগ আজো জেগে তার অপর প্রান্তে|


ভাঙা ব্ল্যাকবোর্ড,ছেঁড়া জুতোয় রাস্তা ছত্রাকার

বুটের শব্দে কাঁপে মহাকাল,

পায়ে পায়ে ছিটিয়ে যাওয়া রক্ত|

আমি শহিদ হলাম,

মহাকালের ঊর্মিমালায় বিলীন হলাম...


নিয়ে গেল সে ...সমুদ্র গর্ভে!

নীল জলে নীল চোখ মেলে দেখি

আমাকে বিপনি করে চলছে

রাজনীতির ব্যবসা,

ভোটের প্রাইম ইস্যু আমার মৃত্যু!

আত্মত্যাগ আজ ধর্ষিত

নেতাদের হাতে

একটু অক্সিজেন চাই

একটু অক্সিজেনের আশায়

আমার পচা লাশের রিগরমর্টিস শুরু হলেও

তাদের অক্সিজেন যোগায় |

স্পর্শ

রানা পাল

স্পর্শ করেছি মনে মনে,

ভিজতে চেয়েছি আমি অনন্ত রাত,

জলের ফোঁটার পাশে,

দেখতে চেয়েছি আমি, তোমাকে হঠাৎ,

চেতনার গাঢ় অচেতনে।


দূরে সরে গেছে,

তবু মুছে দিতে পারেনি সে,

স্তব্ধতাকে ঘিরে আছে কথা,

দরজার কাছে এসে,

এক নীরবতা যেন ছুঁয়ে আছে অন্য নীরবতা।

রোদ্দুর

সোম যুভেন্তাস

একটা গল্প বলবো তোকে ,

না মন খারাপের গল্প না ,

ওকে রোদ্দুর বলে জানতাম,

পরিচয় গল্পে গল্পে, হাসি ঠাট্টায়ে,

একদিন মন্দিরের পাশের রাস্তয়ে :

দেখা হয়ে গিয়েছিলো দুজনের,

রোদ্দুর তখন গল্প করেছিল অনেক,

আমিও গায়ে মাখতে শুরু করেচ্ছিলাম রোদ্দুর-কে...

আস্তে আস্তে নন্দন-রবীন্দ্রসদন -

এরম আরো কতো জায়গা দেখেছে রোদ্দুর-কে ।

ভিক্টোরিয়ায় রোদ্দুর গায়ে মেখে নিয়েছিল বৃস্টি 

কখনো বা স্নান করেছিল গঙ্গার হিমেল হওয়ায়ে ।

এভাবে বেশ ভালই চলছিল,

দু-এক কলি রবীন্দ্রনাথও ছিল চিলেকোঠার ঘরে,

কিণ্তু গল্প-টা মেঘ অন্যই লিখেছিলো ...

রোদ্দুর-কে তার ঘৃণা হতো খুব ।

মেঘ বলল, “ রোদ্দুর তুই নে এবার ছুটি ” ।

তখন রোদ্দুর ছুটি নিল ,

ছুটি নিলাম আমরাও, কেনো ?

তা সে আমিই জানি, আর জানে সেই মেয়ে |


এরপর ফেলে এসেছি , 

সত-সাতটা ধুলো মাখা শরৎ-হেমন্ত ।

হটাৎ সেদিন মানিকতলা , আমি একা ,

দেখলাম রোদ্দুর দাঁড়িয়ে আছে, সেও একা ।

চিনতে পেরেছে, আমায় গ্রাহ্য করছে না বলেই,

ভাবলাম প্রশ্ন করি ,

রোদ্দুর এতো দিন কোথায়ে ছিলে ?

ভাবলাম ছুটে গিয়ে ,

এক ফূঁ এ দিই সব মেঘ উড়িয়ে ,

ফের গায়ে মেখে নিই রোদ্দুর-কে,

কিণ্তু একটা দামি গাড়ি ,

হটাৎ সব রোদ্দুর একই গিলে দে দৌড় |

দাঁড়িয়ে রইলাম একা,

বেশ খানিক-টা সময় মূহুর্তরা ছিনিয়ে নিল,

হেঁসে নিজেই নিজেকে বললাম,

রোদ্দুর তুই বেশ করেছিস ।


কেটে গিয়েছে  আরো বেশ কিছু মেঘলা মাস ।

আমি এখন আধিকারিক ,

মানুষ-কে অধিকার দিতে দিতে ...

ভুলতে চাইছি রোদ্দুর-কে |

এক নতুন চাঁদও এসেছিলো :

জ্যোত্স্নায়ে ভেজাতে চেয়েছিলো ,

স্তব্ধ-নিঝুম এই একা আমি-কে,

কিণ্তু ভিজলাম কই ?

আমি তো রোদ্দুর মেখে নিয়েছি ।


হঠাৎ সেদিন দার্জীলিং-এর ম্যালে ,

সমস্ত কিছু একা ফেলে , আমায় ,

সজীব করে তোলে ।

চমকে দেখলাম : 

রোদ্দুর হাঁটছে , একা পায়ে,

থমকে গেলাম, থমকে গেল সেই মেয়ে,

রোদ্দুর প্রশ্ন করল," কেমন আছো ? "

পরিশ্রান্ত মেঘ এবার হঠাৎ  নিল ছুটি,

বললাম, " রোদ্দুরের অপেখ্যায়ে আছি ! "

ভাবতে পারিনি রোদ্দুরের চোখেও বৃস্টি নামতে পরে !

বৃস্টি মেখে রোদ্দুর তৈরি করলো নতুন রামধনু ।

সে এখনও একা, 

দর্জীলিং-এর স্কূল এ ভূগোল পড়ায়ে,

কেনো ? তা সে আমিই জানি, আর জানে সেই মেয়ে ।


এরপর চিঠিতে রোদ্দুর লিখেছে :

সে ফের ছায়া মাখতে চায়ে ,

মেঘ-কে সেও করেছে আঁড়ি |

রোদ্দুর ফের লুকোচুরি খেলতে চায়ে,

শাল সেগুনের বনে-বনে ...

কারণ সাঁওতাল- পরগনায়ে এখন আমার বাড়ি ,

কেনো তা সে আমিই জানি, আর জানে রোদ্দুর।


আপনিও বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, আলোচনা ও মতামত পাঠাতে পারেন। 
পাঠাবেন অভ্র-তে টাইপ করে মাইক্রেসফট ওয়ার্ড ফাইল। 
মেইল করবেন [email protected] 
আইডি-তে।

1 জুন ও 8 জুন 2014 

প্রবাসী সাতনরী

হিল্লোল রায়

ভালোবাসে ডমিনিক, ছাড়বে না আমাকে- 

এ্যাঞ্জেলা চোখ দুটো, সেই সাথে জামা-কে !

ক্যারোলীন বসে থাকে হাত গুলো বাড়াতে-

এলভিয়া চায় মোর দৃষ্টিকে নাড়াতে !


ক্রিষ্টিনা মাড়ি চেপে বলে আমি রূপোসী-

কাকে ছেড়ে কাকে ধরি? আমি থাকি উপোসী !

সিন্থিয়া চুপ চাপ ভাজা মাছ ওলটায়-

আমি ভাবি হুট করে বসি তার কোলটায় !


এ্যালিসন আঁকে ভালো চোখে আর ভুরুতে-

গোলমেলে লাগলেও শেষ হয় শুরুতে !

এ্যালিনোরা শিল-নোড়া দিয়ে বাঁটে মশলা -

চোখে আনে বৃষ্টি, যেনো এক পশলা !

এ্যানেট এর পায়া ভারী, রঙে দুধে আলতা-

খেতে চায় দেশে গিয়ে টক-ঝাল-চালতা !

লোরেনা-র সাজগোজ দেখলেই ভাবি-

মনে মনে বলে উঠিঃ “কোথা তুই যাবি?”


মেরিলীন ডানা কাটা “লিঙ্কড ইন” ডাব্লিং -

আমাকেই হাতড়ায় চুল করে কারলিং !

মেগ্যান এর ছানি ঘুম এনে দ্যায় খটকা -

ফিরে আনে সম্বিৎ SMS ঝটকা !


ট্যাঞ্জোলা “ম্যান ঝোলা” বাসে, ট্রামে, বাইরে -

দেঁতো হাসি দেখলেই বলে আমি নাই রে !

প্রবাসের চশমায় দেখে যাই গোল-

“সাতনরী” কাকে দেবো? কাকে হরিবোল?

উন্মোচিত হল

সাগর ভট্টাচার্য্য

কখনো মনে হয় তুমি যেন পদ্মপাতায়  জল,

বৃষ্টির ঠিক পরে পাতা অথবা ডাল  ধরে দোল খাও

মনে হয় নামে ভালবাসার ঢল...


কখনো মনে হয় তুমি ধানক্ষেতে ঢেউ,

তারই সুবাসে তোমার গভীর উদাত্ত-অনুদাত্তে বাঁধা দেহ, প্রসারিত, পল্লবিত|


আমার মাটির শরীর ডুবে যায়... নিবিড় বারিকণার মতো,শিউরে ওঠে সমস্ত পর্ণকণা....

জীবনের রোমাঞ্চ জাগে ধূপের ধোঁয়ার মতো ....

জাগে মনে কুণ্ডলিত কুয়াশার আবেশঘন মুহূর্তে!

ঠিক তারই কেন্দ্রে থাকো তুমি প্রসারিত, হিল্লোলিত, কল্লোলিত|


আজ বুঝি, সেই ক্ষমাহীন রাত্রিগুলির মায়াবী বাঁধন, কী ভয়ংকর!

বাইরে সজল মেঘবর্ণ, দেখে নেশা ধরে,

ভুলে কামনার দুই ঠোঁটে টেনে নিলে তোমার বুকে

সব গুলিয়ে গেল..অন্তরাত্মা তখন সম্পূর্ণ নিমজ্জিত

কামনার সরবরে|


কিন্তু যত নিকটে এলে,দেখলে,এ কী ভগ্ন করুণ অবনত মুখ আমার!

ভাবলে     এই কি সেই দিব্যসজল মুখশ্রী! যার যৌবনের ডাকে আমি মগ্ন আকাশের

অসংখ্য তারার মতো চুম্বনকণায় ভরে দিতে পারতাম! হায়...


এই ভেবে করুণায় উদ্বেলিত তোমার বুকে, উদাস নিঃশ্বাস নিক্ষিপ্ত হয়ে বয়ে গেল

ধানক্ষেতের উপর অথবা কাশবনে

ঠিক তোমার রোমাঞ্চিত শরীরের মতো,দূরে...


আর তার অত্যাচার দেহ ভরে আস্বাদ করে

ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে

আমার সমস্ত আঁধার, সমস্ত অন্ধকার!

কেমন আছি আমি

রানা পাল

দিন চলে যায় দিনের মত,

কোথায় যাচ্ছি আমি?

কারো সঙ্গে দেখা হবার কথা,

সমস্ত ভন্ডামী

পকেটে গুঁজে হন্যে হাঁটা অনেক গলিঘুঁজি,

শরীর জুড়ে আদিম উল্কি আঁকা,

কার কাছে রেখে এলাম

সাগর পারের বালি-কাঁকড় আঁকড়ে পড়ে থাকা?


হেমন্তে ভেজা চোখ, কদম ফোটায় শহরের ফুটপাথে,

কেমন আছেন, বলেছিল যে,

তার ছড়ানো দুই হাতে আনন্দরেণু মাখা,

হয়তো রাতে ঘুম ভেঙেছে তাকেই খুঁজে।

গভীর রাতের শিকড় বাকড়

বাড়তে বাড়তে দেখি, ছেয়ে আছে অজস্র নোংরামি,

দিন চলে যায়, সে তো যাবেই,

কেমন আছি আমি?

একশো ষোলটি জোছনার পর

আকতার জাভেদ

বহুদিন নিশ্চুপ; মৌন রিংটোনে শুনিনাতো কিছুই

বাজে না সেল ফোন- বাজে না গ্রামোফোন,

লাগোয়া বাড়ির ফাক গলে রোদ আসে,

কুয়াশাময় বিকেল- অবরুদ্ধ দেয়ালে গুনগুন


- প্রজাপতি, সে তো জানে- উড়ে উড়ে

পৃথিবীর পরিধিতে সাতরং; তবুও নিশ্চুপ কথোপকথন


- কী বলে? কে বলে কাহার সাথে ?


- বাজে না গ্রামোফোন, শুনি না তো হরদম

"মেরা কুছ সামান তুমহারা পাস পারা হ্যায়"


তারপর-

ধীরে ধীরে নেমে পড়ি সিঁড়ি ধরে - নামতেই থাকি

চিলেকোঠা ছোট হয়ে আসে- বুঝি তো;


- একশো ষোলটি জোছনার পর ভিজতে থাকি

না পড়া বৃষ্টিতে; নোনা জলে-

খাকি উর্দি পরা মানুষ

অঞ্জন আচার্য

খাকি খামের সাথে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে খাকি উর্দি পরা মানুষগুলো


সাইকেলের টুংটাং অকারণ শব্দ নেই, কাঁধে নেই ঝোলা কাপড়ের ব্যাগ

ব্যাগের ভেতর নেই, কত শত গোপন শব্দের হাসি-কান্নার অজানা কথামালা

প্রেরক নেই, প্রাপকও নেই। ঠিকানা লেখা খামগুলোয় নেই কোনো আঠা;

ডাকটিকিটগুলো অযথা বাতাসে উড়ে উড়ে বেড়ায়।


কেউ বলে, এ শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে খাকি উর্দি পরা মানুষগুলো


পেটমোটা যানের চিত্কারে এখানে কানে লাগে তালা

কাপড়ের ঝোলাগুলো ঠাঁই পায় ডাস্টবিনে; কাক ও কুকুরে টেনে ছিঁড়ে খায়,

কথা চালাচালি হয় যন্রে ভেতর ক্রমাগত, প্রতি ঘণ্টায়, মিনিটে-মিনিটে, প্রতি সেকেন্ডে অর্থহীন

এখানে সবাই সবার প্রেরক, সবাই সবার প্রাপক। ঠিকানা কেবল শূন্য এক ডট ডট ডট...

বার্তাগুলো কালো ধোঁয়ায়-ধুলায় গড়াগড়ি খায়।


কেউ কেউ বলে, কারা বুঝি ছক কেটে খাকি উর্দি পরা মানুষগুলোকে হত্যা করেছে।

25 মে, 2014

পানকৌড়ি! পানকৌড়ি!

হিল্লোল রায়

এ্যালিহ্যান্ডা হন্ডু রাস এ 

মন নিয়েছে কেড়ে -

গ্লফ গ্রীণের নন্দিতা তো

শুনেই আসে তেড়ে !


ফেসবুক-এ ও গন্ডা দু'য়েক

“পানকৌড়ি” আছে-

বুঝলে “বিপদ” দ্যায় তারা ডুব,

পড়বে ধরা পাছে !


তাই পিঠ বাঁচাতে সুইস ব্যাংকে

রেখেছি আমি টাকা-

এলে শমন করবো দমন,

ভাঁড় দেখিয়ে ফাঁকা !

পায়ের ছাপ

সূর্য সেনগুপ্ত

তোমার যাবার সময় দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে পারিনি। 

দুটো পাল্লাই খোলা পড়ে আছে, 

বাইরে দেখা যাচ্ছে পৃথিবী – অন্তর্দাহে স্তব্ধ।

দেখা যাচ্ছে মাটিতে তোমার পায়ের ছাপ,

চৌকাঠের ওপারে – 

একটু যেন ভিজে, অচেনা।


শ্রাবণের সন্ধ্যার মত মন খারাপ নামল 

ধূসর তমিস্র আলোকহীন।


রাত্রে বৃষ্টি নামবে। 

ধুয়ে যাবে পায়ের ছাপ, অচেনা।

শোক

আকতার জাভেদ

সবুজ হতে চাই, পাটাতনে বিশুদ্ধ এক ভালোবাসা-

হরকরা'র ডাকে ফিরে যেতে চাই

পুরোনো বলিরেখায়- কিছু তো হয়

প্রান্তিক সীমায়, সে তো জানে- শোক হয়;

কোথাও বিউগল বাঁজে- অন্তর্ধানে।

স্বপ্ন নিয়ে...

সুপ্রভাত লাহিড়ী

যদি তুমি তাদের পরিচয় জানো বন্ধু

তবে এসো এইখানে, দাঁড়াও নতমস্তকে,

স্বপ্নের খোঁজে গিয়ে যারা মরণের খোঁজ পেল

ছেড়ে দিয়ে ঘর স্বপ্ন ফিরে পেল নাকো।


ওদের আকাশ ছিল স্বপ্নের মত নীল,

গতির ছন্দে ছিল দুরন্ত আবেগ,

জানেনা কোন অকাল পরিণতি ছিল জাল পেতে।

জর্জরিত মা, ‘বাবা কবে আসবে?

দাদা কতদিন ঘরছাড়া!’


কত এয়োতীর সিঁদুর গেল মুছে,

কত মা অন্ধ হল,

পুত্রহারা, কান্নার প্লাবনে।


তবু প্রতীক্ষা,

স্বপ্নের প্রতীক্ষা।

সেকাল একাল

সুদীপ্ত বিশ্বাস

তোমরা ছিলে অনেক ভাই আর অনেক কটি বোন 

আমাদের তো ভাই বোন নেই আছে ফ্ল্যাটের কোণ। 

তোমরা সবাই আম কুড়োতে বৈশাখী ঝড় উঠলে 

ছপ ছপা ছপ সাঁতরে যেতে শাপলা শালুক ফুটলে।

তোমরা সবাই খেলতে গিয়ে আছাড় খেতে ধুপধাপ

আমরা খেলি ঘরে বসে একা একাই চুপচাপ।

তোমরা খেলা করতে মাঠে, আমরা খেলি স্ক্রিনে

তোমরা ছিলে শক্ত পোক্ত আমরা তো মিনমিনে।

তাই বলে কি কাজ পারি না ?কত কিছুই পারি

বিশাল বিশাল দৈত্য দানো মাউস ক্লিকে মারি।

আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন...

আপনিও বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, আলোচনা ও মতামত পাঠাতে পারেন। পাঠাবেন অভ্র-তে টাইপ করে মাইক্রেসফট ওয়ার্ড ফাইল। মেইল করবেন banglasahityo[email protected] আইডি-তে।

18 মে, 2014

সভ্যতা উন্মাদ হলে

নবনীতা চৌধুরী কোলে

সভ্যতা যদি উন্মাদ হয়

এক পা দু’পা করে এগিয়ে চলে ক্রমাগত

সভ্যতা এখন জেট

সভ্যতা তখন ঘূর্ণী

৩৫ ডিগ্রী অক্ষাংশের ঝঞ্ঝা।।

মিডিয়ার অবিচ্ছিন্ন চ্যানেলে 

দিনরাত তাকে অতিক্রম করা

একটু একটু করে এর আস্বাদন পেতে পেতে 

কখন এর দাস হয়ে নতজানু বসে পড়া।

আগুন তখন সুগন্ধি ধূপ পোড়ানোর বদলে

মানুষ পোড়ায়


ধর্ম তখন বাঁচানোর বদলে

অশ্লীল আক্রোশে আক্রান্ত করে।

সভ্যতার সংবাদপত্রে হেডলাইন তখন খালি মাফিয়া

নিষ্ঠুর বিলাসী হাসি গুলো

নিমেষে বিজ্ঞাপনের মত দেখায়

সংস্কৃতির আপাদমস্তক জুড়ে খালি

থ্রি এক্স রেটিংয়ের পর্নোগ্রাফ

তবু সভ্যতার মিছিলে আমরা সবাই।।

হরপ্পার ধংসাবশেষ থেকে

সভ্যতার ছেঁড়া ছেঁড়া অবশিষ্টাংশ নিয়ে

আবার এখন ধ্বংসের পালা

নাইলের তীর থেকে দূর দেশে

গঙ্গার তীরে তীরে সভ্যতা


কাবেরীর তীরে তীরে সভ্যতা,

সভ্যতা হিংস্র, সভ্যতা স্বার্থপর

সভ্যতা উন্মাদ

তবুতো সভ্য হবার আশায়

আমারা সবাই সভ্যতার অনুবাহক।।

উঠোন

সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায়

অঘোর ঘুমে রাত

তুলসী তলায় প্রদীপ নিভে এলে  

ধুলো মাখা বিকেলের পরাগে  

               জাগে একান্ত উঠোন

কোথাও কোন শব্দ নেই 

চাঁদের সখ্যতা

              আর অতীতের ছায়া

এঁকে যায় ভোরের কোলাজ...।

উড়ুক্কু মাছের জন্য

আকতার জাভেদ

আজকাল নদীর বুকে গভীরতা মাপি-

সুনামীর তীব্রতায় ভাঙ্গে বুক,

অশরীরি সে; চুড়ির রিনিঝিনি শব্দে

মৌনতা ভাঙ্গি, তাকে বলি-

পাতাগুলো সবুজ হলে নেমে আসবো

নদীর বুকে, ডুবে যাবো; ক্রমশ ডুবে যাবো

পুরোনো কোন সভ্যতা ডুবেছে যেখানে-


আজকাল নদীর বুকে ঢেউ দেখি,

পাল তোলা, পাখি ওড়া- কখনো উড়ুক্কু মাছ

সে জানে, কোথাও চর ভাঙ্গে-

পুরো জল নীল হলে বৃষ্টি নামে,

বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে নেমে পড়ি-

উড়ুক্কু মাছের জন্য চর খুঁজে ফিরি,

নদীর গভীরে নদী খুঁজি-

তবু নিশ্চুপ!

সুমন কুমার সাহু

জানালা টা খোলাই ছিল

খেয়াল করিনি আগে!

এক হাল্কা মিষ্টি হাওয়ায়

চোখ গেল জানলার দিকে।


জ্যোৎস্না রাত্রি ঢাকে

মেঘের আড়াল নিয়ে-

আলো আঁধারির বেশে

নিজেই আছি দাঁড়িয়ে।

চমকে উঠি আমি!

খানিক সামলে জিজ্ঞেস করি;

ওখানে কি করছ ?

“তুমি”, না মানে “আমি”!


স্থির নিশ্চল দাঁড়িয়ে দেখছে আমায়

ভ্রুক্ষেপ নেই আমার কোনও কথায় ।

আমি চিৎকার করে চেঁচিয়ে বলি,

ওখানে দাঁড়িয়ে কেন?

শুনতে কি পাচ্ছনা-

আরে ওখানে দাঁড়িয়ে কেন!


নিস্তব্ধ রাতের অন্ধকারে

আমার উদ্ভাসিত মুখ;

গভীর ভাবে দেখছে আমায়,

তবু নিশ্চুপ!

11 মে, 2014

আমরা ভালো আছি

অর্ক সিংহ

ধুলি পরা চোখে 

দু পাশ দিয়ে সামনেও

দৃষ্টি সীমিত রাখি,

এই অল্প দর্শনে বলি,

আমরা ভালো আছি|


উজ্জ্বল আলোকিত সাইনবোর্ডের নীচে

অন্ধকার যেখানে জমাট বাঁধে

যেখানে পাপ বাড়ে, 

চোখ বন্ধ করে পার হয়ে বলি,

আমরা ভালো আছি|


কামদুনী বা মধ্যমগ্রাম

চলকে ওঠা তাজা রক্ত,

কালো ব্যাচের মোমবাতির আলোতে

অক্লেশে ধুয়ে ফেলে বলি

আমরা ভালো আছি|

সন্ধেবেলায় দোকানে যখন

অর্ধঘুমন্ত শিশু গ্লাস ধোয়,

আড্ডার তুফান চায়ের কাপে,

গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বলি

আমরা ভলো আছি| 


বৃদ্ধাবাস সংখ্যায় বাড়ে

প্রেম বোঝে নোটের তোড়া

রক্তের সম্পর্ককে আজ 

নিলামে দর হেঁকে বলি

আমরা ভালো আছি|


জীবনের পিচ্ছিল পথে

শুধু এগোনোর বাসনায়

বোবা সরীসৃপ বুকে পাঁক জমেছে,

সেই পাঁক ধুয়ে একবার হলেও যেন বলি,

আমরা ভালো আছি|

ছেলেটা

সুদীপ্ত বিশ্বাস

এই ছেলেটা দুষ্টু ভীষণ ওই ছেলেটা দস্যি

লাফায় শুধু তিড়িং বিড়িং হাতে ফোটায় বড়শি ।

এই ছেলেটা বায়না ধরে ওই ছেলেটা হাসে

হুড়মুড়িয়ে একলা ছোটে নদীর পাশে পাশে।

এই ছেলেটা স্বপ্ন দ্যাখে, ওই ছেলেটা ঘুমোয় 

আয় আয় চাঁদ টি দিয়ে যা দে ভরিয়ে চুমোয়।

এই ছেলেটা একটু রোগা ওই ছেলেটা কালো

দুটি ছেলেই মন কেড়ে নেয় দুটি ছেলেই ভাল।

এই ছেলেটা উড়ায় ঘুরি, কিংবা বাজায় বাঁশি

চলনারে ভাই ওদের সাথে পরান খুলে হাসি।

এই ছেলেটায় ওই ছেলেটায় অনেক ঘুরে থামি

ছেলে দুটি আর কেউ নয় ছোট্ট বেলার আমি।

আজ মনে বসন্ত

রমা চোংদার

কোন একদিন গোধূলির আলো

গোলাপের তোড়ায় মাখিয়ে

আমার হাতে দিয়ে বলেছিল মৃত্তিকা

“টাটকা গোলাপের সাথে

তাজা হৃদয়টুকু আজ তোমার হাতে সঁপে দিলাম।”

তুমি তোমার মনের মাঝে একে স্বযত্নে তুলে রেখো।


এক পৃথিবী সোহাগের আঁচলে জড়িয়ে নিয়েছিলাম তোমার হৃদয়।

আমার প্রাণ জুড়ে সেদিন শুধুই বসন্ত,

তোমার সৌরভ ও প্রেমসুধায় মশগুল হয়ে

তৃপ্তির ছবি এঁকেছিল সমস্ত ইন্দ্রিয়।

আজ ও মনে পড়ে বর্ষণ,

তোমার ফোঁটা ফোঁটা চুম্বনে

মৃত্তিকা সেদিন সিক্তা সমর্পিতা।


সময়ের পাহাড় ডিঙিয়ে বাস্তবের

প্রখর রৌদ্রে মন আজ বৈশাখী মৃত্তিকা।

বর্ষণ, তোমার মনে অভিমানের জমাট বাঁধা মেঘ

আমার অনুভবের উত্তাপে গলে গলে

ভালবাসার বৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয়ে ঝিরঝির করে

ঝরে পড়ুক, আমার জীবন ধরণীর বুকে।

আমার রিক্ত হৃদয়কে সিক্ত করে

মুক্ত হোক তোমার মেঘলা আকাশ।

অনামিকার অসুখ

আকতার জাভেদ

একটা পাথরকণা ছিলো বোধ হয়,

যার আঁচড়ে ঝরেছে লোহিত কণা-

এফোঁড় ওঁফোড় হয়ে গ্যাছে সেই নখ

পুরোনো হয়ে থাকা অনামিকায় একটা দিক ছিলো,

পাঠশেষে বিস্তর অবসর, বসেছিলো পাখি-


ছিটকে যাওয়া উল্কাপিন্ডে বিঁধেছিলো

হৃদয়; কালো হয়ে যাওয়া মাংসে

মন্থর গতিপথ- বলেছি, সেদিন-

এভাবে ফিরিও না,

পুরোনো ক্ষত ফিরে ফিরে আসে- অনামিকার অসুখ;

উত্তরনীতি

সোমনাথ মান্না

পাশের ঘরে রাজ-দা, আর তার হবু ....নীতি |

পৃথিবীর মানচিত্র আঁকা বেলুন দেখেছি ওদের ঘরে,

উঠছে, বসছে, চিৎকার করছে, সবই পরিমাণগত |

তাতে মানুষের ছবি আয়নার মতো;

আমারই জানলায়ে যায়ে দেখা |

তাতে মুখ দেখাদেখি , হাত রাখারাখি, গায়ে মাখামাখি,

শুধু প্রতিফলনের কোন-টা আলাদা ,

কখনও ডাঁয়ে, কখনও বাঁয়ে ,

কখনও সোজা, বা জানলায়ে : কিন্তু....


আমি, মা-কে তখন কী  উত্তর দিতাম ?

আমিও যদি, শিশু-মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াতাম !

4 মে, 2014

জীবন মানে

সুদীপ্ত বিশ্বাস

জীবন মানে দখিন হাওয়া অল্প কিছু পাওয়া

জীবন মানে হিমেল বাতাস অনেক হারিয়ে যাওয়া।

জীবন মানে তরাই-ডুয়ার্স, ভাটিয়ালির গান

জীবন মানে কান্না-হাসি, অল্প অভিমান।

জীবন মানে দূর পাহাড়ের মাঝ রাতের আলো

জীবন মানে কালো মেঘে বিদ্যুৎ চমকাল।

জীবন মানে প্রজাপতি লাল ফুলটার পাশে

জীবন মানে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে আসে।

জীবন মানে এই ফুল তুই কার খুশিতে ফুটিস ?

থ্রিজির যুগে জীবন মানে ইঁদুর দৌড়ে ছুটিস... 

জীবন মানে একটু আলো একটু বেঁচে থাকা

জীবন মানে আকাশ জুড়ে রামধনুটা আঁকা 

জীবন মানে পাগল বাউল যায় না তাকে বোঝা 

জীবন মানে ভালবাসা, মিথ্যে মানে খোঁজা …

হৃদয় 

আকতার জাভেদ

তাহলে স্পর্শ দিলাম বাগান বিলাস,

একটু একটু করে সিফন নেমে গেলে

অশরীরী কবিতার লাইন, বুনোটে মোলায়েম সে

ধীর; খুউব ধীর এগোয় পুরোনো মথ-


থেমে যাওয়া চরের গা ঘেঁষে অক্টোপাশ,

প্রশ্ন শুধাই-


এক প্রশ্থ মোহনায় এতটা হৃদয় নিয়ে কী করো ?

ভেবে দেখো 

রমা চোঙদার

আজকাল আর কোন কিছুতেই অবাক হই না।

মনের ক্ষেতে ভালোবাসার চাষ করতে করতে বড়

ক্লান্ত হয়ে গেছি। আঘাতে আঘাতে অনুভূতির

নরম মাটিটা আজ শক্ত পাহাড় হয়ে গেছে।

যে পাহাড়ে কোন আশার বনানী জীবনের

আলোক রশ্মিকে ছুঁতে পারে না। গম্ভীর পাহাড়

তার চাপা আর্তনাদও নিজেই বুকের মধ্যে রাখে।

হৃদয়ের রক্তক্ষরণের ঝরনাধারা পৃথিবীর সমস্ত

অহংকারের অস্তিত্বকে সময়ের

স্রোতে ভাসিয়ে দেয়।

কখনো কি ভেবে দেখেছো? পাহাড়েরও

ইচ্ছে হতে পারে কি না, ভালোবাসার সমুদ্র

থেকে দু-আঁচলা জল পান করে

জীবন্ত পাথুরে লাশ থেকে প্রাণবন্ত মাটি হওয়ার

স্বপ্ন দেখে কি না?

যাঃ, অসভ্য

নির্মাল্য মুখার্জী

দোলের দিন রং মাখাতে গিয়ে বাঁকিয়ে দিলাম কানের সোনার রিং

পড়তে বসে অঙ্ক খাতার ওপর কষিয়ে ছিলাম জীবন্ত বিজ্ঞান

গুঁজে ছিলাম মেঘ ভর্তি চুলে বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল

কাঁটা সমেত মাছ ধরতে গিয়ে কামড়ে ছিলাম চাঁপার কলি ফুল

চিলেকোঠায় ঘঘুর বাসার পাশেই স্তব্ধ ছিলাম জ্বলন্ত দুই গাছ

সন্ধ্যে হলেই অপার লোডশেডিং, দুহাত তুলে জুড়ত ভুতের নাচ

একঘর লোক , গমগমিয়ে টিভি, পড়ল এসে পায়ের ওপর পা

কলতলার ঐ আবছা অন্ধকারে, আজও শুনছি - এই অসভ্য, যাঃ।

গ্রাম বাংলা

সুমন কুমার সাহু

জানি আজ বহু দূরে

সাত সমুদ্র তেরো নদীর 'পারে

সময় গিয়েছে চলে

শুধু অপেক্ষI ঘনো কালো রাত্রির আগমনে


তবুও মন আজ ও তাজা

সেতো পাউসী মেঘে বাঁধা

ঘুরে বেড়াই কাঁদা পায়ে

গাঁয়ের পাড়ে হাঁটা I

দুই ধারে সবুজ খেত

আলে আলে ছোটা

ছুটতে ছুটতে নদীর পাড়ে

ঘাটে বাঁধা নৌকা,

মায়ের দেওয়া পয়েসা খানি

ট্যাঁপেই থাকুক গোঁজা


সাঁতরে আমি পেরিয়ে যাবো

নীল নদের ভেলা;

নাওয়ের পালে হাওয়া লাগে

অগ্র্রগতির ধারা

হৃদয়ে মাঝে ভালোবাসা

আজও আমার বাংলা-গাঁ I

সময়ের সাথে ভাসতে ভাসতে

হয়তো কাছে-দূরে

তোমার স্মৃতি তুলে ধরে

আমার মোবাইল রিংটোনে,

মন যখন মোবাইল হয়

ভাইব্রেসান প্রানে

বাংলা মায়ের মুখ খানি আজ

ল্যাপটপে ভাসে II

Click to edit table header
পুরনো সংখ্যার কবিতা
আপনিও বাংলা সাহিত্য ওয়েব ম্যাগাজিনে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, আলোচনা ও মতামত পাঠাতে পারেন। পাঠাবেন অভ্র-তে টাইপ করে মাইক্রেসফট ওয়ার্ড ফাইল। মেইল করবেন [email protected] আইডি-তে।
Copyright © 2013 Creative Media All Rights Reserved | Designed & Developed by Graphic World (9143382591)